Published : 30 Jul 2026, 10:08 PM
ইউক্রেইনে রাশিয়ার বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রাজধানী কিইভের একজনও রয়েছেন। হামলা ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সংবাদ সংস্থা নিহতের সংখ্যা ১৩ বলেও জানাচ্ছে।
এই হামলায় রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিবেশী পোলিশ ভূখণ্ডে পড়ে বিস্ফোরিত হলে নেটো ও পোল্যান্ড যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। পোল্যান্ড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য রাশিয়াকে দোষারোপ করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জনায়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পোলিশ ভূখণ্ডের প্রায় ৯০ কিলোমিটার ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে মাটিতে গর্ত হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্স।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জরুরি এক সরকারি বৈঠকে বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে থাকলে আমরা সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করতে প্রস্তুত ছিলাম। তার কার্যালয় এক্সে বলেছে, সবকিছু থেকে এই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার কেএইচ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
পোল্যান্ড এর আগে ইউক্রেইনে রাশিয়ার ওই প্রাণঘাতী হামলার পর নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেইনে ৩ শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়। আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, রাশিয়া ৭০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২৮০ টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ এবং ইউক্রেইন সংলগ্ন পোল্যান্ডের সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলে আঘাত হানা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেইনজুড়ে কিইভ থেকে লিভিভ এবং দনিপ্রোপেত্রোভোস্ক পর্যন্ত সামরিক স্থাপনা এবং কার্গো জাহাজগুলোর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়ার এই হামলার সময়েই পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর সদস্যদেশ পোল্যান্ডের ভূখণ্ডের গভীরে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাই প্রথম নয়। এর আগেও পোল্যান্ড তাদের মাটিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার কথা জানিয়েছিল। তবে এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের ভূখন্ডের অনেক বেশি ভেতরে পড়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরেও একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেটি ছিল ইউক্রেইন সীমান্ত থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে।
রাশিয়ার এবারের হামলাটি এমন সময় হয়েছে যখন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরছেন। সফরের সময় তিনি বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেইনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্স দিতে রাজি হয়েছেন।
কিইভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আরও হামলার হুমকি রয়ে গেছে।