Published : 19 Dec 2025, 12:39 PM
যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে টিকটকের চীনা মালিক বাইটড্যান্স মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক চুক্তিতে সই করেছে।
বৃহস্পতিবার কর্মীদের পাঠানো এক স্মারকে টিকটকের প্রধান নির্বাহী শৌ জি চিউ এ তথ্য জানান।
চুক্তির অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ব্যবসার একটি যৌথ উদ্যোগ (জেভি) গঠন করা হবে, যার ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকবে ওরাকল, সিলভার লেক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্সসহ কয়েকটি বিনিয়োগকারীর হাতে। আগামী ২২ জানুয়ারি চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম চালাতে যৌথ অংশীদারত্বের ওয়াশিংটনের চাপের অবসান ঘটতে পারে।
বিবিসি লিখেছে, গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত কাঠামোর সঙ্গেও খসড়াটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি আইন কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেন, যে আইনের অধীনে টিকটক বিক্রি না হলে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ছিল।
টিকটক বলছে, “এই চুক্তির ফলে ১৭ কোটিরও বেশি মার্কিন ব্যবহারকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে অসীম সম্ভাবনার জগৎ আবিষ্কার করতে পারবেন।”
চুক্তি অনুযায়ী, বাইটড্যান্সের হাতে থাকবে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা। ওরাকল, সিলভার লেক এবং আবুধাবিভিত্তিক এমজিএক্স প্রত্যেকে ১৫ শতাংশ করে শেয়ার পাবে। বাকি ৩০ দশমিক ১ শতাংশ থাকবে বাইটড্যান্সের বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হাতে।
এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, চুক্তির অংশ হিসেবে ওরাকল টিকটকের সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম ব্যবহারের লাইসেন্স পাবে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
দফায় দফায় বিলম্বের পর এই চুক্তি হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে টিকটক নিষিদ্ধের আইন পাস করে। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অ্যাপটি বিক্রি কথা বলা হয়।
আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি। তবে মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তি চূড়ান্ত করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার সময়সীমা পিছিয়ে দেয়।
ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে জানান, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং শি এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে অক্টোবরে দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের পরও প্ল্যাটফর্মটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই ছিল।
বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের টানাপোড়েনের মধ্যেই টিকটকের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রভাষক অ্যালভিন গ্রেলিন বলেন, “টিকটক এখন বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের দরকষাকষির একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।”
চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন। তার মতে, “এই ব্যবস্থা মার্কিন ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় একটুও সহায়তা করবে না।”
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, টিকটকের অ্যালগরিদমকে মার্কিন ব্যবহারকারীর তথ্য দিয়ে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে বাইরের কোনো প্রভাব না থাকে।
ওয়াইডেন বলেন, “এতে আদৌ অ্যালগরিদম নিরাপদ হাতে যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।”
২০২৪ সালের ওই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সময়সীমা বাড়াতে যারা কংগ্রেসে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তিনি তাদের একজন ছিলেন।
অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু ব্যবহারকারীও।
টিকটকে তিন লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টিফানি সিয়াঞ্চির। তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগকারীরা যেন উদ্যোক্তাদের জন্য একই অভিজ্ঞতা বজায় রাখেন।
“আমি চাই, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সুরক্ষিত থাকুক।”
টিকটকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সাত মিলিয়নের বেশি ছোট ব্যবসা তাদের পণ্য ও সেবা প্রচারে এ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে।
সিয়াঞ্চি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী মেটার তুলনায় লাভ ভাগাভাগির শর্ত বেশি সুবিধাজনক হওয়ায় তিনি টিকটক বেছে নিয়েছেন।
গত এক বছরে টিকটক রক্ষার দাবিতে ওয়াশিংটন ও টিকটক দু’জায়গাতেই আন্দোলন সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।