Published : 17 Jul 2024, 12:53 PM
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিকি হ্যালি ও রন ডিস্যান্টিস।
রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এরা দুইজনই ট্রাম্পের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিলওয়াকিতে দলটির সম্মেলনে মঙ্গলবার তারা দু’জনই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানান।
এর মধ্যদিয়ে ট্রাম্প একটি হত্যা চেষ্টা থেকে ফিরে আসার তিন দিন পর তারা দলীয় ঐক্যের নজির তুলে ধরেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যালি নিজের প্রচারণা চলাকালে ট্রাম্পকে ‘নির্বাচিত হতে সক্ষম নন’ এবং প্রেসিডেন্ট পদের ‘অযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছিলেন; কিন্তু সেসব সত্ত্বেও তিনি তার সমর্থকদের ‘জাতির স্বার্থে’ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হ্যালি বলেন, “ভোট দেওয়ার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে আপনাকে শতভাগ একমত হতে হবে না, বাকিটা আমার কাছ থেকে নিয়েন।”
হ্যালি সম্মেলনের মঞ্চে ওঠার সময় সম্মেলনে উপস্থিত কিছু রিপাবলিকান করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেও বাকিরা দুয়ো ধ্বনি দেন।
এর বিপরীতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের রক্ষণশীল গভর্নর ডিস্যান্টিস মঞ্চে ওঠার সময় উপস্থিত জনতা তাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান। চলতি বছরের শুরুর দিকেই তিনি রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের বক্তব্যে ডিস্যান্টিস বাইডেনকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের পক্ষে অতি বেশি বৃদ্ধ।
সম্মেলনস্থলে নিজের বক্সে বসে থাকা ট্রাম্প ডিস্যান্টিসের এ বক্তব্যে হাসেন ও করতালি দেন। এক বক্সে তার পাশে ছিল রানিং মেট জে. ডি. ভ্যান্স। সম্মেলনের প্রথমদিন সোমবার ভ্যান্সকে নিজের রানিং মেট হিসেবে ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
এই ভ্যান্সও একসময় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক ছিলেন, পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের কট্টর সমর্থকে পরিণত হন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ট্রাম্প সম্মেলন স্থলে প্রবেশ করেন। আগের দিনের মতো এদিনও সেখানে উপস্থিত রিপাবলিকানরা তাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানান।
শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। গুলি তার কান চিরে দিয়ে চলে যায়। তারপর সোমবারই তিনি প্রথম জনসম্মুখে কানে ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় হাজির হয়েছিলেন।
সোমবার ট্রাম্পকে বেশি আবেগপ্রবণ মনে হলেও মঙ্গলবার তাকে বেশি উচ্ছ্বসিত দেখা গেছে। তার কানে থাকা ব্যান্ডেজ থেকে বোঝা যাচ্ছিল কতো অল্পের জন্য তিনি হত্যা চেষ্টা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।
আরও পড়ুন: