ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ‘স্পষ্ট’: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
একই ধরনের তৎপরতা ফ্রান্স এবং জার্মানিতেও চলছে বলে ভোটারদের সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম বলেছেন, ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনুষ্ঠিত (ব্রেক্সিট) গণভোটে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল এটি ‘স্পষ্ট’। একই ধরনের তৎপরতা ফ্রান্স এবং জার্মানিতেও চলছে বলে ভোটারদের সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার প্রকাশিত ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নাম বলেন, “১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার পর আমি জানতে চেয়েছিলাম, ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার কোনও হস্তক্ষেপ ছিল কিনা। আমি এর স্পষ্ট উত্তর পেয়েছি—হ্যাঁ, হস্তক্ষেপ হয়েছিল।”
"আমি মনে করি, আসলে আমরা এ বিষয়ে একটু বেশিই অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলাম এবং বিদেশ থেকে মানুষ যেভাবে আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে, সে সম্পর্কে আমরা জনগণকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জানাইনি," বলেন তিনি।
তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ বা হস্তক্ষেপের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি বার্নাম।
বিবিসি ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রদপ্তরের মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি জানিয়েছেন যে, প্রমাণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না বা বিস্তারিত তথ্য দেবেন না।
ডাউটি বিবিসি-কে বলেন, "রাশিয়া স্পষ্টতই আমাদের বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে। তারা তথ্যযুদ্ধে লিপ্ত, কেবল এ বছরই তারা অপপ্রচার এবং প্রোপাগান্ডায় ১৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করছে।"
তিনি বলেন, “এটি আমাদের গণতন্ত্রে রাশিয়ার অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর বিষয় যা বার্নাম তুলে ধরছেন।
সোমবার প্রকাশিতব্য এক সাক্ষাৎকারে বার্নাম জানান যে, এ সপ্তাহের শুরুর দিকে জার্মানি সফরের সময় তিনি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের সঙ্গে রুশ হস্তক্ষেপের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “জার্মানির রাজনীতিতে রাশিয়া থেকে নিশ্চিতভাবেই কিছু ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
"এই বিষয়গুলো এখন নথিপত্রে স্পষ্টভাবে রাখা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটাররা বুঝতে পারবেন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কিছু অংশ আমাদের শত্রু, অর্থাৎ রাশিয়া প্রভাবিত করে।”
এই প্রথম যুক্তরাজ্যের কোনও প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করলেন যে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছিল। অবশ্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে বহু আগে থেকেই সাবধান করা হয়ে আসছিল।
২০২০ সালে, যুক্তরাজ্যের সংসদীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি দেশটির নির্বাচন এবং গণভোটগুলোতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
রাশিয়া ইইউ গণভোটের ফলে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছিল কিনা, সে ব্যাপারে এ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। তবে এই ধরনের হুমকি ঠিকমতো খতিয়ে দেখতে এবং তা রুখতে না পারার জন্য একের পর এক আসা সরকারগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে।"
এর জবাবে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেদনটিকে সরাসরি উড়িয়ে দেন এবং একে 'রুশোফোবিয়া' বা রুশ-ভীতি বলে অভিহিত করেন। এবং ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেন যে, রাশিয়া অন্য দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি।
তবে একই বছর, তৎকালীন কনজারভেটিভ (রক্ষণশীল) সরকার বলেছিল, তারা প্রায় নিশ্চিত যে, রুশ এজেন্টরা ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিল।"
