২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার চাইছে ঐক্য, তারা ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: তারেক রহমান

রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজার মহানবমীর অনুষ্ঠানে তিনি সব এলাকার সুষম উন্নয়ন ও সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Oct 2026, 01:46 PM

Updated : 20 Oct 2026, 02:29 PM

সরকার যখন দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইছে, একটি মহল তখন ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা না করে, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “কিছুদিন যাবত আমরা দেখেছি আমরা যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছি, বর্তমান সরকার যেই ঐক্যটিকে তৈরি করতে চাচ্ছে, বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, আমরা দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।

একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও ‘কোনো কোনো মহল’ বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমি সকলকে সাথে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী সকল জনগণকে একসাথে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে আপনারা বিতর্কিত করবেন না।”

কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সেখানে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

‘সব মানুষের সরকার’

নির্বাচনে বিএনপি ও তার প্রার্থীদের কারা ভোট দিয়েছেন, কারা দেননি–সেই পার্থক্য না করে সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় এই সরকার, যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব এলাকার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সুষমভাবে করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে গত দুই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে।

এসব উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম দেখিনি’

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল। পরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

“আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।”

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা চায়, শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে তাকে হিন্দু ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বরণ করে নেওয়া হয়। একদল শিশু নৃত্য পরিবেশনায় তাকে অভ্যর্থনা জানায়।

পূজামণ্ডপে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন।

মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের যে অবকাঠামো আছে, তার উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি দেখতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভুট্টচার্য বক্তব্য দেন।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।

এদিন তারেক রহমান রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করবেন। তিন মহানগরে পূজামণ্ডপ দেখে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।