ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন? গণভোটের ভাবনা অ্যান্টিগা ও বার্বুডার

আপাতত ব্রিটিশ রাজাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নিলেও আগামীতে অ্যান্টিগা ও বার্বুডাকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করতে গণভোট চান ক্যারিবিয়ান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 06:39 AM
Updated : 12 Sept 2022, 06:39 AM

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে অ্যান্টিগা ও বার্বুডাকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হবে কি না, সেই প্রশ্নে গণভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যারিবিয়ান দেশটি।

প্রধানমন্ত্রী গাস্টন ব্রাউনি বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি গণভোট হতে পারে। তবে ব্রিটেনের সাথে শত্রুতা তৈরি করা এর উদ্দেশ্য নয়।

রানির মৃত্যুর পর ব্রিটেনের নতুন রাজা হয়েছেন তার ছেলে চার্লস। তাকে অ্যান্টিগা ও বার্বুডার রাজা হিসেবে ঘোষণা দিয়েই গাস্টন ব্রাউনি গণভোটের ওই পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, আগামী বছর প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্নির্বাচিত হতে পারলে অ্যান্টিগা ও বার্বুডাকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার প্রস্তাব তিনি গণভোটে দেবেন।

বিবিসি লিখেছে, দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে ১৭ আসনের ১৫টিই ব্রাউনির দলের দখলে। আগামী বছরের নির্বাচনে ফের জয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি। আর এরকম গণভোটের জন্য তার দেশে যে খুব বেশি ভোটারের দাবি আছে, তেমনও নয়।

আইটিভি নিউজকে ব্রাউনি বলেন, “আমার মনে হয়, বেশিরভাগ মানুষ এ বিষয়টা নিয়ে সেভাবে ভাবেও না।”

এক সময় বিট্রিশ উপনিবেশ ছিল অ্যান্টিগা ও বার্বুডা। ১৯৮১ সালে দ্বীপ দেশটি স্বাধীনতা পেলেও ব্রিটিশ রাজাকে এখনও তারা রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হলে রাজার ওই স্বীকৃতি আর থাকবে না।

ব্রিটেনের বাইরে অ্যান্টিগা ও বার্বুডাসহ মোট ১৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকবেন রাজা তৃতীয় চার্লস। ৫৬ দেশের জোট কমনওয়েলথেরও প্রধান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গাস্টন ব্রাউনি বলেছেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে জনগণের সিদ্ধান্তের জন্য গণভোটে যেতে হবে। এর মানে রাজার প্রতি কোনোরকমের অসম্মান দেখানো নয়। এটি কোনো শত্রুতামূলক কাজ নয়; অ্যান্টিগা ও বার্বুডার সঙ্গে রাজতন্ত্রের কোনো সংঘাত নেই।”

তারপরও কেন গণভোটের কথা বলছেন, সেই ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী ব্রাউনি বলেন, “সত্যিকারের সার্বভৌম জাতি হতে স্বাধীনতার বৃত্ত সম্পূর্ণ করার একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ হবে এটা।”

অ্যান্টিগা ও বার্বুডার মত অস্ট্রেলিয়ারও রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিটিশ রাজ। রানির মৃত্যুর পর সেখানেও আলঙ্করিক রাজতন্ত্রের নিয়ম বাতিল করার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে গত মে মাসে নির্বাচিত রিপাবলিকান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এ বিষয়ে কোনো ধরনের ভোটাভুটির সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করে দিয়েছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্র করার ব্যাপারে সমর্থন ছিল আলবানিজের। তবে রানির মৃত্যুর পর রোববার এবিসি নিউজকে তিনি বলেছেন, “এ আলোচনার সময় এখন নয়, এখন জাতীয় শোক পালনের সময়।”

গত মার্চে সেসময়ের ডিউক এবং ডাচেস অব কেমব্রিজ উইলিয়াম ও কেট রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তিতে কমনওয়েলথ রাজ্য বেলিজ, জ্যামাইকা ও বাহামা সফর করেন। তারপর থেকেই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ব্রিটিশ রাজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন, তার দেশ ‘এগিয়ে চলেছে’ এবং ‘স্বাধীন’ হওয়ার জন্য তারা একদিন ‘সত্যিকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ অর্জন করবে।

বার্বাডোস গত বছর নিজেকে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সঙ্গে সংযোগ চ্ছিন্ন করে।

গত তিন দশকের মধ্যে প্রথম কোনো দেশ হিসাবে বার্বাডোস ব্রিটিশ রাজক রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেয়। এর আগে ১৯৯২ সালে মরিশাস ব্রিটিশ রাজকে বাদ দিয়েছিল। তবে মরিশাসের মত বার্বাডোসও কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক