১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিস্তারিত পরিষ্কার না হলেও প্রশাসন ওয়াশিংটনে কয়েকশ ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ বরাবর মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের গম্বুজটি দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2025, 03:00 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:45 PM

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে গৃহহীন মানুষজনকে বিতাড়িত করার ও অপরাধীদের কারাগারে ঢোকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যদিও শহরটির মেয়র দাবি করেছেন, বর্তমানে সেখানে অপরাধ বৃদ্ধির কোনো রেকর্ড নেই। 

এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিস্তারিত পরিষ্কার না হলেও প্রশাসন ওয়াশিংটনে কয়েকশ ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরেক শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসীদের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প এই বিতর্কিত কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, জানিয়েছে রয়টার্স। 

ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কতোজন সেনা মোতায়েন করা হবে আর তাদের ভূমিকা কী হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।   

ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত গভর্নররা সিদ্ধান্ত নেন কখন ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করবেন। কিন্তু ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সরাসরি প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

এই শহরটির অতীত উদাহরণগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের একদল উত্তেজিত সমর্থকের মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘটনাটিও আছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশের পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। ছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশের পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “গৃহহীনদের সরে যেতে হবে, অবিলম্বে। আমরা আপনাদের থাকার জায়গা দেবো, তবে রাজধানী থেকে অনেক দূরে। 

“অপরাধীরা, আপনাদের সরে যেতে হবে না। যেখানে আছেন আপনাদের সেখানেই কারাগারে রাখবো আমরা।” 

রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোন আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করবেন তা ব্যাখ্যা করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউজ। রাজধানী শহরটির শুধু ফেডারেল জমি ও ভবনগুলো এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বাধীন।  

ট্রাম্প ‘ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধ বন্ধে’ সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার উচ্ছেদ পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা করবেন কি না, তা পরিষ্কার হয়নি। 

ওয়াশিংটন ডিসিতে গৃহহীন সমস্যা হ্রাস করতে কাজ করা সংগঠন কমিউনিটি পার্টনারশিপ জানিয়েছে, সাত লাখ বাসিন্দার শহরটিতে যে কোনো রাতে ৩৭৮২ জন নিঃসঙ্গ মানুষ গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।   

সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব মানুষের বেশিরভাগই রাস্তায় না থেকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অথবা ক্রান্তিকালীন আবাসগুলিতে রাত কাটায়। 

শুক্রবার হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের এক তরুণ কর্মীর ওপর সহিংস হামলার ঘটনা প্রেসিডেন্টকে ক্ষুব্ধ করেছে। এরপরই শহরটিতে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়। 

শুক্রবার রাতে ফেডারেল এজেন্টরা শহরটিতে যেসব অপরাধের তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে সেগুলোর মধ্যে ‘অনেকগুলো লোক লাইসেন্স ছাড়া পিস্তল বহন করছিল’, স্থগিত করে রাখা লাইসেন্স নিয়ে লোকজন গাড়ি চালাচ্ছিল আর বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো অন্যতম। 

ওই কর্মকর্তা জানান, শনিবার শহরটিজুড়ে ৪৫০ জন ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

শহরটির পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সহিংস অপরাধ ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। 

ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর মিউরিয়াল বাউজার রোববার বলেছেন, “রাজধানী শহরটি অপরাধ বাড়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না।”