Published : 18 Sep 2025, 12:20 AM
রাশিয়ার সরকারবিরোধী প্রয়াত নেতা আলেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া দাবি করেছেন, তার স্বামীর দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা দুটি বিদেশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং তাতে বিষ প্রয়োগের প্রমাণ মিলেছে।
২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক সার্কেলে অবস্থিত রাশিয়ার এক কারাগারে আচমকা মৃত্যু হয় ৪৭ বছর বয়সী নাভালনির।
নাভালনায়া বারবারই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে এলেও ক্রেমলিন তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, নাভালনির মৃত্যুর আগে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় নাভালনিকে পশ্চিমা কোনো দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা হচ্ছিল।
বুধবার এক্সে এক ভিডিও পোস্টে নাভালনায়া বলেন, ২০২৪ সালে নাভালনির শরীর থেকে সংগৃহীত কিছু নমুনা গোপনে রাশিয়ার বাইরে পাঠানো হয় এবং দুটি ল্যাবরেটরিতে তা পরীক্ষা কর দেখে।
“দুই দেশের এ ল্যাবগুলো একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে—আলেক্সিকে হত্যা করা হয়েছিল, বিশেষভাবে বললে, বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।”
“এই ফলাফলগুলো জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি। আমাদের সবার সত্য জানার অধিকার আছে.” বলেছেন তিনি। যদিও কোন ধরনের বিষের প্রমাণ পাওয়া গেছে তা তিনি খোলাসা করেননি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “তার (নাভালনায়া) এই বক্তব্য সম্পর্কে আমি কিছু জানি না, তাই এ নিয়ে কিছু বলতে পারব না।”
নাভালনির রাজনৈতিক মিত্রদেরকে মস্কো ‘পশ্চিমাদের হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা বিপজ্জনক চরমপন্থি’ হিসেবে দেখে। আবার নাভালনিও পুতিনের রাশিয়াকে ‘চোর, চাটুকার ও গুপ্তচরদের হাতে পরিচালিত নড়বড়ে অপরাধচক্রনির্ভর রাষ্ট্র’ মনে করতেন, যারা শুধু অর্থ নিয়েই ভাবে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাশিয়ায় বিপ্লবসহ বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকম্পের প্রত্যাশায় ছিলেন, তবে জীবদ্দশায় তার সে আশা পূরণ হয়নি।
২০২৩ সালে লেখা তার শেষদিকের এক প্রবন্ধে নাভালনি রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণিকে তাদের লোভ-লালসার জন্য কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দেশের সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হেলায় হারানো ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করেছিলেন।
২০২১ সালে নাভালনি জার্মানি থেকে চিকিৎসা শেষে স্বেচ্ছায় রাশিয়ায় ফিরে আসেন, যদিও পশ্চিমা পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছিল সাইবেরিয়ায় তার ওপর নার্ভ এজেন্ট সহযোগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। দেশে ফেরার পরপরই তিনি গ্রেপ্তার হন এবং জালিয়াতি, উগ্রপন্থা ও অন্যান্য অভিযোগে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। নাভালনি অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।
তার মৃত্যু ‘একাধিক রোগের সংমিশ্রণে’ হওয়া জটিলতা থেকে হয়েছে- রুশ তদন্তকারীদের এমন ব্যাখ্যাকে গত বছর নাভালনায়া প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর পেছনে অবশ্যই রাশিয়া ও পুতিনের হাত আছে।
যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ অভিযোগ মানতে নারাজ। পুতিন নাভালনিকে হত্যার নির্দেশ দেননি বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং আরও একটি মার্কিন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে তা উঠেও এসেছে।
বুধবারের ভিডিওতে নাভালনায়া তার স্বামীর জীবনের শেষ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, মৃত্যুর আগে ব্যায়ামের এক ছোট কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাভালনি এবং যন্ত্রণায় মেঝেতে বসে পড়েন, পরে তাকে পানিশমেন্ট সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
“আলেক্সি মাটিতে শুয়ে হাঁটু গুটিয়ে পেটে চেপে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার বুক আর পেটে জ্বলছে, এরপর তিনি বমি করতে শুরু করেন।”
নাভালনায় একটি ছবিও দেখান যেখানে বমির অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে; ছবিটি ওই পানিশমেন্ট সেলের বলে দাবি তার।
তার স্বামীর মৃত্যু সংক্রান্ত সত্য অজ্ঞাত অনেক পশ্চিমা রাজনীতিকের কাছেও বেশ অস্বস্তিকর, বলেছেন নাভালনায়। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।