Published : 10 Aug 2026, 02:32 PM
ভারত প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য দীর্ঘ পাল্লার কুশা ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতির পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এটিকে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষার ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এই ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিটি তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও অন্যান্য হুমকি থেকে রক্ষায় বহুস্তরীয় একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছেন। কুশা ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিটি ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ নামের এই ব্যবস্থাটির একটি প্রধান অংশ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা দেশটির কর্তৃপক্ষের।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২৩ জুলাই কুশা ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিটির উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এটি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য রাশিয়ার এস-৪০০ ট্রায়াম্ফের মতো আমদানি করা অস্ত্রশস্ত্রের উপর নির্ভরতা হ্রাস করবে। ইউক্রেইন যুদ্ধের জন্য এর সরবরাহ পাঠাতে বিলম্ব করেছিল মস্কো।
গত বছর ভারতের কথিত ‘অপারেশন সিন্দুর’র চলাকালে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত জড়িয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। তখন ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় এস-৪০০ যে ভূমিকা রেখেছিল তার প্রশংসা করেছে দেশটির বিমান বাহিনীর নেতৃবৃন্দ। তারা দাবি করেছে, রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা পদ্ধতিটি পাকিস্তানের পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি আগাম সতর্কীকরণ ও নজরদারি বিমানকে প্রতিরোধ করেছিল।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভারত চারটি ব্যবহার উপযোগী এস-৪০০ এর চালান গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের শেষ দিকে আরেকটি পাওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে নয়া দিল্লির করা ৫৪৩ কোটি ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল রবি গোপাল কৃষ্ণা কাপুর জানিয়েছেন, নিজেদের তৈরি পদ্ধতি হওয়ায় কুশা সহজেই ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারবে।
তিনি বলেন, “ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক বিস্তারের পাশাপাশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কারণে হুমকির মাত্রা আরও বহুগুণ জটিল হয়েছে ও বেড়ে চলেছে। আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো একটি শক্তিশালী, সমন্বিত ও বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, চিহ্নিত ও মোকাবেলা করে ধ্বংস করতে সক্ষম।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২৮ ও ২০৩০ সালের মধ্যে কুশা পর্যায়ক্রমে সার্ভিসে যুক্ত হবে।
কাপুর জানিয়েছেন, পুরো দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট এস-৪০০ ভারতের নেই।
তিনি আরও বলেন, “এই পদ্ধতিটি (এস-৪০০) ব্যয়বহুল। এর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ পূরণ ও আধুনিকায়নের বিষয়টি অনেকাংশেই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে এর শেষ দুটি পদ্ধতি সরবরাহে যে দেরি হয়েছে তা আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার একটি উদাহরণ।”
কাপুর জানান, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একেবারে বাইরের স্তরের অংশ হিসেবে কুশা এস-৪০০ এর বিকল্প হতে পারে আর ভেতরের স্তরে থাকবে আকাশ এর মতো স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।