১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত স্মারক স্বর্ণমুদ্রা অনুমোদন

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি ভবন, প্রকল্প এবং মুদ্রায় নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টায় এই ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণমুদ্রাটি সর্বশেষ সংযোজন ।

ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত স্মারক স্বর্ণমুদ্রা অনুমোদন
ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত স্মারক স্বর্ণমুদ্রা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Mar 2026, 05:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:12 PM

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা  অনুমোদন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের আর্টস প্যানেল। 

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া সদস্যদের নিয়ে গঠিত আর্টস প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এই মুদ্রা অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি ভবন, প্রকল্প এবং মুদ্রায় নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টায় এই ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণমুদ্রাটি সর্বশেষ সংযোজন ।

কমিশন অব ফাইন আর্টস-এর কাছে ইউএস মিন্টের এক কর্মকর্তার উপস্থাপনা চলাকালীন আলোচনা ২৪ ক্যারেটের ওই মুদ্রার ব্যাস নিয়ে গড়ায়, যা তিন ইঞ্চি (৭.৬ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত হতে পারে।

ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া হোয়াইট হাউজের সহযোগী চেম্বারলেইন হ্যারিস বলেন, প্রেসিডেন্ট বড় আকারের মুদ্রাই পছন্দ করবেন। 

তার মতে, “মুদ্রা যত বড় হবে, ততই ভালো।”

 এরপরই আটর্স প্যানেল মুদ্রাটির অনুমোদন দেয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুদ্রা বিষয়ক ব্যুরো ‘মিন্ট’ মুদ্রার চূড়ান্ত নকশা নির্ধারণ করবে। ট্রাম্প আগেই এ নকশা অনুমোদন করেছেন।

মুদ্রাটিতে কঠোর চেহারার ট্রাম্পকে ডেস্কের ওপর ঝুঁকে সামনে তাকানো অবস্থায় দেখানো হবে। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির একটি ছবির আদলে এটি তৈরি। 

তবে এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরাসহ অন্য একটি কেন্দ্রীয় আর্টস কমিটির সদস্যরাও। ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর জেফ মার্কলি বলেন, “রাজা বা স্বৈরশাসকরা মুদ্রায় নিজেদের মুখ বসান, কোনও গণতান্ত্রিক নেতা নয়। 

ট্রাম্প প্রশাসন প্রেসিডেন্টের মুখের প্রতিকৃতি স্মারকমুদ্রায় অঙ্কিত করার এই পদক্ষেপ আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মানে বদলে দেওয়ার সর্বশেষ চেষ্টা।”

তবে স্মরকমুদ্রায় ক্ষমতায় থাকা একজন প্রেসিডেন্টের ছবি বসানোর ঘটনা এটিই প্রশত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১৯২৬ সালে তৎকালীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি মুদ্রায় স্থান পেয়েছিল। তবে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ছবির সঙ্গে তার ছবি ছিল। 

কিন্তু ট্রাম্পের এই স্বর্ণমুদ্রাটি কুলিজের মুদ্রার থেকে ভিন্ন। কারণ, এটি আগেরটির থেকে আকারে অনেক বড় হবে, তবে তাতে থাকবে শুধু ট্রাম্পের নিজের ছবি।

তবে আইনি জটিলতা এড়াতে এই স্বর্ণমুদ্রাটিকে ‘সংগ্রহযোগ্য’ হিসেবে রাখা হচ্ছে, যা সরাসরি বাজারে প্রচলিত মুদ্রা বা কারেন্সি হিসেবে গণ্য হবে না। 

কারণ মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনও প্রেসিডেন্ট জীবিত থাকা অবস্থায় বা মৃত্যুর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণ মুদ্রায় তার ছবি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। 

ফলে এই স্বর্ণমুদ্রাটি সরাসরি বাজারে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হবে না। এটি কেবল সংগ্রহ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। 

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বাজারে চালানোর জন্য ট্রাম্পের ছবিসহ আলাদা ১ ডলারের মুদ্রারও প্রস্তাব করেছে। ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবন, নৌবাহিনীর রণতরী, বিদেশি ধনীদের জন্য ভিসা কর্মসূচি এবং শিশুদের জন্য সঞ্চয়ী প্রকল্পের সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দিয়েছেন।