Published : 02 Sep 2025, 03:52 PM
গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শহর বান্দুংয়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিক্ষোভকারীদের ভিড় লক্ষ্য করে ইন্দোনেশীয় পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনা প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েকদিনের বিক্ষোভ এরই মধ্যে অন্তত ৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে সোমবার ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী আইরলাঙ্গা হার্তাতো নিশ্চিত করেছেন।
আইনপ্রণেতাদের বাড়তি সুবিধাদিসহ সরকারি ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থেকে রাজধানী জাকার্তায় গত সপ্তাহে প্রথম বিক্ষোভ দেখা যায়। পরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক নিহত হওয়ার পর অনেক জায়গায় দাঙ্গা ও লুটপাটেরও খবর পাওয়া গেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বান্দুংয়ের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএনআইএসবিএ) ও কাছাকাছি পাসুনদান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মঙ্গলবার জানায় ছাত্র সংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
পাসুনদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইলহাম রয়টার্সকে বলেন, কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের ফটকগুলোর বাইরে কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
“এক শিক্ষার্থীর গায়ে দুটি রাবার বুলেট লেগেছে,” বলেছেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা হেন্দ্রা রোচমাওয়ান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পসগুলোতে প্রবেশ করেনি তবে শিক্ষার্থী নয় এমন বিক্ষোভকারী যারা ভেতরে আশ্রয় নিতে চাইছিল তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে, কেননা বিক্ষোভকারীরা ওই এলাকার সড়কগুলো আটকে রাখছিল।
ইউএনআইএসবিএ-র রেক্টর হারিতস নুমান পুলিশের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, তার ক্যাম্পাস বিক্ষোভকারীদের মেডিকেল হাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী পরিষদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী ভিন্নমত দমন করতে চাইছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদুনে গ্যাস মারার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে যে ‘বর্বর আক্রমণ’ করেছে তাতে অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগেছে বলেও দাবি তাদের।
১৯৯৮ সালে কর্তৃত্ববাদী শাসক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় অনেক দিন ধরেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের ‘ভ্যানগার্ড’ বিবেচিতে হয়ে আসছে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা প্রাবোও সুবিয়ান্তো সাবেক শাসক সুহার্তোর অধীনে সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
প্রাবোও এর মধ্যে গত সপ্তাহ থেকে চলমান বিক্ষোভে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে অংশ নেওয়া শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রেসিডেন্ট শ্রম আইন নিয়ে আলোচনা করতে আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে তার কার্যালয়।
ইন্দোনেশিয়ার ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রধান সাইদ ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও-র কাছে সস্তা শ্রমের অবসান, চাকরি আউটসোর্সিং বন্ধ ও আয়কর কমানোসহ শ্রমিকদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেছেন।
এদিকে প্রাবোও সতর্ক করে বলেছেন, সহিংসতা বাড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।
বিক্ষোভ মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।
“বিক্ষোভগুলোকে রাষ্ট্রদ্রোহ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে,” বলেছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি।
ইন্দোনেশীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের যেসব অভিযোগ উঠেছে তার ‘দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ’ তদন্ত চেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।
জাকার্তা পুলিশ জানিয়েছে, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুসহ অন্যদের মধ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগে অলাভজনক আইনি সেবাদাতা গোষ্ঠী লোকাতারু ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেলপেদ্রো মারহায়েনকে সন্দেহভাজন অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স লোকাতারুর মন্তব্য চাইলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে তারা মারহায়েনের গ্রেপ্তারকে ‘বেআইনি’ অভিহিত করেছে।
বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ইন্দোনেশীয়কে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল ছবিতে গোলাপী ও সবুজ রঙ যোগ করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার হ্যাশট্যাগ ‘রিসেট ইন ইন্দোনেশিয়া’ দিয়ে সরকারের কাছে অনেক অনেক দাবিও জুড়ে দিচ্ছেন।