Published : 03 Nov 2025, 12:37 PM
ইংল্যান্ডের এক ট্রেনে ছুরি হামলা চালিয়ে ১১ জনকে আহত করার ঘটনায় এক ব্রিটিশ যুবক একমাত্র সন্দেহভাজন এবং এটি কোনো সন্ত্রাসবাদী ঘটনা নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।
তারা জানায়, এই ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনের সঙ্গে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রোববার কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি হামলার সঙ্গে জড়িত নন, পুলিশ কর্মকর্তারা এমন সিদ্ধান্তে আসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রোববার রাতে তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আহত যারা এখনও হাসপাতালে আছেন তাদের মধ্যে ট্রেনটির একজন ক্রু রয়েছেন। তিনি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ বলেছে, “গোয়েন্দারা ট্রেনটির সিসিটিভি ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছেন। তাতে পরিষ্কার, তিনি (ওই ক্রু) অত্যন্ত বীরোচিত তৎপরতা দেখিয়েছেন ও নিঃসন্দেহে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”
হামলার আগে কী হয়েছিল তা নির্ণয়ের চেষ্টা হচ্ছে
শনিবার ইংল্যান্ডের পূবাঞ্চলীয় কেমব্রিজশায়ারের হান্টিংডন স্টেশনের অদূরে একটি ট্রেনে নির্বিচার ছুরি হামলার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে সাহার্য করেছিল। কিন্তু পরে পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচনা করার মতো কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনে যে যে ঘটনা ভূমিকা রেখেছিল তা এবং সন্দেহভাজনের অতীত নিশ্চিত হতে কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধারও করা হয়েছে।
পুলিশ ওই একমাত্র সন্দেহভাজনকে পিটারব্যারা থেকে আসা একজন কৃষ্ণকায় ব্রিটিশ নাগরিক বলে বর্ণনা করেছে। সন্দেহভাজন সেখান থেকেই ট্রেনটিতে উঠেছিলেন। এলাকাটি লন্ডন থেকে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) উত্তরে।
সব চেয়ারে রক্ত
প্রত্যক্ষদর্শী অলি ফস্টার বিবিসিকে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) লন্ডনগামী ট্রেনটিতে তিনি ছিলেন। তখন কেউ একজন তার পাশ দিয়ে দৌঁড়ে চলে যাওয়ার সময় বলতে থাকেন, এক ব্যক্তি ‘সবাইকে, সবকিছুকে’ ছুরিকাঘাত করছেন।
ফস্টার বলেন, “আমি চেয়ারে হাত রাখলাম আর তারপর হাতের দিকে তাকালাম, হাতে রক্ত লেগে আছে। তখন আমি চেয়ারের দিকে তাকালাম, পুরো চেয়ার রক্তে ভরা। এরপর আমি সামনের দিকে তাকালাম আর দেখলাম, সব চেয়ারে রক্ত।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি এক সন্দেহভাজনকে বড় একটি ছুড়ি নাচাতে দেখেছেন, পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
ট্রেনে উঠেছিল সশস্ত্র পুলিশ
লন্ডন থেকে প্রায় ১২৯ কিলোমিটার দূরে হান্টিংডনে জরুরিভিত্তিতে থামার পর সশস্ত্র পুলিশ ট্রেনে উঠে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এটিকে ‘ভয়ঙ্কর ঘটনা’ বলে অভিহিত করে এ ধরনের হামলা ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ রাজা চার্লস বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি ‘অত্যন্ত শঙ্কিত ও মর্মাহত’ হয়েছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন। জনগণকে এ ঘটনার বিষয়ে গুজব ও জল্পনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গত দশকে যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ছুরি হামলার ঘটনা ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে ৫৪৫৮৭টি হামলার ঘটনা শুধু গত বছরই ঘটেছে। ছুরি হামলার হার হিসেবে এটি ইউরোপের সর্বোচ্চ।