১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের জেল

২০১৩ সালে ভারতে গোয়ার একটি হোটেলের লিফটে এক অধস্তন সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে।

ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের জেল
তরুণ তেজপাল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 11:24 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

ভারতের অনুসন্ধানী সাময়িকী তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে তারই এক সহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় ১০ বছরের জেল দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত ২০২১ সালের তার খালাসের রায় বাতিল করে এই সাজা ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি সংক্রান্ত ৩৭৬(২)(এফ), ৩৭৬(২)(কে), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাকে ১০ বছর জেল দেওয়ার পাশাপাশি ১০ লাখ রূপির বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ার ‘থিঙ্কফেস্ট’ অনুষ্ঠানের সময় একটি হোটেলের লিফটের ভেতর এক অধস্তন সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। ২০১৭ সালে গোয়ার মাপুসা ট্রায়াল কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়। তবে ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট প্রমাণের অভাব ও ‘বেনিফিট অফ ডাউট’-এর ভিত্তিতে তেজপালকে খালাস দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল গোয়া সরকার।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ড. নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসানদেকরের ডিভিশন বেঞ্চ গোয়ার সেশনস কোর্টের ২০২১ সালের খালাসের রায় বাতিল করে জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তেজপাল অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সাজা ঘোষণার আগেই জানান যে, তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

বম্বে হাইকোর্টের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা গোয়া সরকারের হয়ে সওয়াল করেন। ওদিকে, তরুণ তেজপালের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আবাদ পন্ডা।

আদালতে তুষার মেহতা বলেন, “নির্যাতিতা অভিযুক্তের মেয়ের বয়সী হওয়ার পরও এই অপরাধ করা হয়েছে। তিনি তো বাবার বয়সী, তার এই অপরাধে জড়ানো উচিত হয়নি। এ ক্ষেত্রে একটা নিদর্শন তৈরি হওয়া দরকার। আদালতের উচিত এই বার্তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যে, একজন নারী যখন ‘না’ বলেন, তার অর্থ ‘না’।”

প্রসিকিউশন তরুণ তেজপালের পাঠানো একাধিক ই-মেলের উপরও জোর দেয়। ওই ই-মেলগুলোতে নিজের ‘বিচারে ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘটনার জন্য অনুশোচনার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এগুলো ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

তবে তেজপালের আইনজীবী আবাদ পন্ডা দাবি করেন, ওই ই-মেল কোনওভাবেই যৌন সম্পর্ক বা শারীরিক নির্যাতনের স্বীকারোক্তি নয়। বরং তা কেবলমাত্র পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনের প্রসঙ্গ।

তাছাড়া, অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ই-মেল, সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিশেষজ্ঞদের মত তুলে ধরে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর গত সপ্তাহে রায় সংরক্ষিত রেখেছিল বম্বে হাইকোর্ট। এরপর বৃহস্পতিবারের রায়ে তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।