১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

ব্যাংক ঋণ জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের অভিযোগে ৩৫টি স্থানে ৫০টির বেশি কোম্পানিতে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জেরা করা হয়েছে ২৫ জনকে।

ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি
অনিল আম্বানি। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2025, 08:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। 

মূলত ব্যাপক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের অভিযোগে শুরু হয়েছে এ অভিযান। ৩৫টি স্থানে অভিযান চলছে। এসব জায়গায় ৫০টিরও বেশি কোম্পানিতে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি কর্মকর্তারা। ২৫ জনকে জেরাও করেছেন তারা।

অনিল অম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ ও ইয়েস ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালাচ্ছে ইডি। ভরতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই এর দুটি এফআইআর এর ভিত্তিতে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে (পিএমএলএপি) এই অভিযান শুরু হয়েছে।

ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের মামলায় ইডি অভিযানের অংশ হিসেবে ৫০টির বেশি কোম্পানির নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে, যেগুলোর সঙ্গে রিলায়েন্স গ্রুপের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইয়েস ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাবেক প্রোমোটারদেরও ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে ‘রাগা’ কোম্পানিজের জন্য প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়।  ‘রাগা’ আদতে রিলায়্যান্স অনিল আম্বানি গ্রুপের অধীনস্থ। 

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রিলায়্যান্সের ওই ঋণ মঞ্জুর হওয়ার ঠিক আগে দিয়ে ইয়েস ব্যাঙ্কের তৎকালীন প্রোমোটারদের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলোতে মোটা অঙ্কের ঘুষের অর্থ স্থানান্তর হয়। 

প্রমোটাররা এই অর্থ পেয়ে ‘রাগা’ কোম্পানিগুলোকে ঋণ মঞ্জুর করেছিলেন।  ইডির মতে, এটি ছিল একটি 'কুইড প্রো কো' (দেওয়া-নেওয়ার) চুক্তি। অর্থাৎ, ঋণ অনুমোদনের বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছিল বলেই সন্দেহ।

এছাড়াও, ঋণপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বিবরণ দুর্বল বা যাচাই না করা, একাধিক কোম্পানিতে অভিন্ন পরিচালক ও ঠিকানা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই ঋণ অনুমোদন এবং পুরনো ঋণ মেটাতে নতুন ঋণ দেওয়ার মতো অনিয়মের তথ্যও পেয়েছে ইডি।

তদন্তে সহায়তা করেছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক (এনএইচবি), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি), ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (এনএফআরএ) এবং ব্যাংক অব বরোদা।

সেবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেডের করপোরেট ঋণ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩,৭৪২ কোটি রুপি থেকে এক বছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৮,৬৭০ কোটি রুপিতে।

এছাড়া স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) অনিল আম্বানির রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (আরকম) এবং অনিল আম্বানির ব্যক্তিগত হিসাবকে ‘প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে এই প্রথম নয়—২০২০ সালের নভেম্বরেও এসবিআই একই অভিযোগ তোলে এবং ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। তবে পরদিনই দিল্লি হাই কোর্টের আদেশে সেই অভিযোগ তুলে নেয় ব্যাংকটি।

সূত্র: এনডিটিভি