এবার আইনপ্রণেতাদের তালিকা থেকে ৯ সামরিক কর্মকর্তাকে বাদ দিল চীন
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনা সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদধারী জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল।
দিনকয়েক পরে হতে যাওয়া বার্ষিক সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সভার আগে আইনপ্রণেতাদের তালিকা থেকে ৯ সামরিক কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে বাদ দিল চীন।
দেশটির আইনসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটি এ সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আইনপ্রণেতাদের তালিকা থেকে এ ১৯ জনের বাদ পড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনা সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদধারী জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল। ঝাং-কে একসময় শি-র সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র বিবেচনা করা হতো।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে শি দুর্নীতিকে কমিউনিস্ট পার্টির জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ অভিহিত করে একের পর এক ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযান’ চালিয়েই যাচ্ছেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জব্দ করতেই এই অভিযানকে কাজে লাগাচ্ছেন।
যে সামরিক কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) কমান্ডার লি চিয়াওমিং এবং সাবেক নৌ কমান্ডার শেন জিনলংও আছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাদ পড়াদের তালিকায় সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সুন শাওচংয়ের মতো বেশ ক’জন প্রাদেশিক কর্মকর্তাও আছেন। শাওচং একসময় ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ছিলেন।
গত বছরের অক্টোবরেও শি-র প্রশাসন ৯ শীর্ষ জেনারেলকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষপদে সরকার যে খড়্গ চালাচ্ছে, তাতে এশিয়ার প্রভাবশালী এ দেশটির সেনা ইউনিটগুলোর মনোবল ও সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
কয়েক দিন পর রাজধানী বেইজিংয়ে শুরু হতে যাওয়া এনপিসির বার্ষিক সভা ও চীনা পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ সম্মেলনে কয়েক হাজার প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা।
এনপিসি-ই চীনের পার্লামেন্টের ভূমিকা পালন করে, আর পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ সম্মেলন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা কর্তৃপক্ষ।
৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১১ মার্চ পর্যন্ত এই ‘টু সেশনস’ চলবে, সেখানেই দেশটির সরকার তাদের পরবর্তী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ঘোষণা করবে, যেখানে তাদের অগ্রাধিকারগুলো এবং বার্ষিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে আভাস পাওয়া যাবে।
