আমরা ‘কার্যত’ নেটো সদস্যই, বললেন ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইউক্রেইন দেশ হিসাবে, দেশের সেনাবাহিনী হিসাবে খাতায় কলমে না হলেও কার্যত পশ্চিমা সামরিক জোটের সদস্য হয়ে গেছে বলেই মনে করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজনিকোভ।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Jan 2023, 01:47 PM
Updated : 13 Jan 2023, 01:47 PM

ইউক্রেইন কার্যত পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর সদস্য হয়েই গেছে- এমনই মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকোভ।

পশ্চিমা দেশগুলো একসময় ইউক্রেইনকে সামরিক সাহায্য দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। কারণ, এই সাহায্য দেওয়া নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয় ছিল তাদের। কিন্তু এখন তাদের সেই চিন্তা বদলে গেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক দেশ ইউক্রেইনকে সাহায্য করে যাচ্ছে। যুদ্ধাস্ত্র থেকে শুরু করে ত্রাণ, সব দিক থেকেই ইউক্রেইনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের একাধিক দেশ।

ইউক্রেইনের এতসব সাহায্য প্রাপ্তির মুখে রাশিয়া বলে আসছে, আদতে নেটোর সঙ্গেই লড়তে হচ্ছে তাদেরকে।

রাশিয়ার কথায়, ইউক্রেইনে রুশ বাহিনীর সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন তকমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই যুদ্ধেই ইউক্রেইনকে অস্ত্র সাহায্য পাঠিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব যুদ্ধ জিইয়ে রাখছে। আদতে নেটোর শক্তির সঙ্গেই লড়তে হচ্ছে রাশিয়াকে।

ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজনিকোভ বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তার দেশের সেনাবাহিনীর কাছে যথেষ্ট অস্ত্র আছে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে সেই বোঝাপড়াও আছে বলে দাবি করেছেন। নেটো সদস্য দেশগুলোর তুলনায় ইউক্রেইন যে কম যাচ্ছে না- সে ইঙ্গিতই তার মন্তব্যে দিয়েছেন মন্ত্রী।

সাক্ষাৎকারে রেজনিকোভ বলেছেন, ইউক্রেইন নিশ্চিতভাবেই ট্যাংক এবং জঙ্গি বিমানসহ দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত অস্ত্র পাবে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। কারণ, রাশিয়া এবং ইউক্রেইন উভয়ই আসছে বসন্তে নতুন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

আগের তুলনায় এবার যুদ্ধের ভয়াবহতা বেশি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ আছে এবং ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনে করেন, এক্ষেত্রে এক ধরনের প্রটোকলও আছে।

তিনি বলেন, “দেশ হিসাবে, দেশের সেনাবাহিনী হিসাবে আমরা নেটোর সদস্য হয়ে গেছি। কার্যত নেটো সদস্য হয়েছি, খাতায়-কলমে (আইনগতভাবে) নয়। কারণ, আমাদের অস্ত্রশস্ত্র আছে এবং সেই অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তাও আমরা জানি।”

ইউক্রেইন বহু বছর ধরেই পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। কিন্তু দেশটির এই চেষ্টাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিরপুতিন তার দেশের নিরাপত্তায় হুমকি হিসাবেই বর্ণনা করে এসেছেন।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতবছর অক্টোবরে হঠাৎ করেই দ্রুত নেটো সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানান।

তিনি বলেছিলেন, “আমরা এরই মধ্যে (নেটো) জোটের মানদণ্ড অনুযায়ী আমাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আমরা এখন নেটোতে যোগদান ত্বরান্বিত করতে ইউক্রেইনের পক্ষ থেকে আবেদন সইয়ের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

পরে ইউক্রেইনের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টায় সমর্থনও দেয় নেটো জোটের ৯ ইউরোপীয় সদস্য দেশ। তবে ইউক্রেইনকে নেটো সদস্য হতে হলে তাতে জোটের ৩০ দেশেরই অনুমোদন লাগবে।

তাই দেশটির সদস্যপদ খুব শিগগিরই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া, যুদ্ধে লিপ্ত থাকার কারণে ইউক্রেইনের নেটো সদস্যপদের আবেদন নিয়ে জটিলতাও আছে।

নেটোর ৫ নম্বর আর্টিকেল অনুযায়ী, এ জোটের কোনও সদস্যদেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ‍যুদ্ধ সব সদস্যের ওপর যুদ্ধ বলে বিবেচিত হয় এবং সদস্যদেশগুলো সম্মিলিতভাবে এর মোকাবেলা করে।

ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার দেশকে কার্যত নেটো সদস্য বলে যে মন্তব্য করেছেন তা বিতর্ক উস্কে দিতে পারে- এমন সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেছেন। রেজনিকোভ বলেছেন, “আমার কথায় বিতর্ক হবে কেন? এটাই সত্য। আমি নিশ্চিত, অদূর ভবিষ্যতে আইন মেনে আমরা নেটো সদস্যপদ পাব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক