১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

থাইল্যান্ডে স্যুটকেসে কিশোরীর মরদেহ, ‘শ্বাসরোধে’ মৃত্যুর প্রমাণ

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় স্যুটকেসে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ময়নাতদন্তে পুলিশ এই প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় অস্ট্রেলীয় এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে স্যুটকেসে কিশোরীর মরদেহ, ‘শ্বাসরোধে’ মৃত্যুর প্রমাণ
কিশোরী তুনচানোক দোনহোমলা। ছবি: পাতায়া পুলিশ/বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 09:07 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় স্যুটকেসের ভেতর থেকে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পুলিশ। এতে জানা গেছে, শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল মেয়েটির।

বিবিসি জানায়, গত ২৭ জুন ভোরে রেললাইনের পাশ থেকে তুনচানোক দোনহোমলা নামের ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মাত্র ১৫ মিনিট আগে দেশ ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতির সময় সাইমন পিটার কারমেন (৪৫) নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বুধবার পাতায়া নগর পুলিশের প্রধান আনেক স্রোথোংইইউ বিবিসি-কে জানান, ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, তুনচানোকের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা মৃত্যুর মূল কারণ নয়।

লাশের গায়ে পাওয়া ডিএনএ সায়মনের সঙ্গে মিলে গেছে, যা কিশোরীকে স্যুটকেসে ভরার সময় সেখানে থেকে গিয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ সায়মনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ককে অপহরণ এবং অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ এনেছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে মামলাটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সায়মনকে অভিযুক্ত করার চূড়ান্ত সময়সীমা ১৮ সেপ্টেম্বর।

পুলিশ কর্মকর্তা আনেক জানান, সায়মন শুরুতে সব অভিযোগ অস্বীকার করেননি এবং মেয়েটিকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, "আদালতে সায়মন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও আমরা সব আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করে শক্ত প্রমাণ সাজিয়েছি।" আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সায়মনের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৫ জুন ভোর ৩টা ৩৪ মিনিটে তুনচানোককে নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢোকেন সায়মন এবং সেদিন বিকেলেই একটি বড় স্যুটকেস নিয়ে একা বের হয়ে মোটরবাইকে তুলে নেন।

আটক সায়মন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মরক্ষার অজুহাত দেন। তিনি জানান, ১ হাজার বাথ দেওয়ার চুক্তিতে ফ্ল্যাটে আনলেও পরে ৫০০ বাথ দেওয়া নিয়ে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। 

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি কিশোরীর পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।”

কিশোরী তুনচানোকের পরিবার পাতায়া থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে কালাসিন প্রদেশে বাস করে। বাবার একমাত্র সন্তান তুনচানোক গত ১৬ জুন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পাতায়ায় গিয়েছিলেন।

মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা থোংচাই দোনহোমলা বলেন, "মা না থাকায় যে কোনও প্রয়োজনে আমার মেয়ে নিজেই ব্যবস্থা করে নিত, আর আমাকেও সবসময় সহযোগিতা করত।"

সৎমা ওরাদি বুসারাকুম বলেন, "অনবরত কেঁদে কেঁদে আমাদের চোখ ফুলে উঠেছে, আমরা সায়মনের দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড চাই। এমনকি অভিযুক্তকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কি না, আমি পুলিশের কাছে সেটাও জানতে চেয়েছিলাম।"