১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটন ডিসিতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল

যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য সমালোচকরা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটন ডিসিতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল
মেরিল্যান্ডের নিউ ক্যারলটনের একটি মেট্রো স্টেশন থেকে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট গোষ্ঠীর সদস্যরা বেরিয়ে আসছেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 01:46 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের গোষ্ঠী ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’ রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিজুড়ে মিছিল করেছে। 

৪ জুলাই, শনিবার এ মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে তাদের মুখ সাদা কাপড় ও সানগ্লাস দিয়ে ঢেকে রেখেছিল বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

সামাজিক মাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, খাঁকি প্যান্ট, খাঁকি বেসবল ক্যাপ ও ঘন নীল শার্ট পরা লোকজন সারিবদ্ধভাবে ওয়াশিংটন ডিসির পাতাল ট্রেনের স্টেশনগুলোতে নামছেন ও মেট্রো রেলে চড়ে আছেন। 

এরপর তাদের ছন্দবদ্ধভাবে মেরিল্যান্ডে নিউ ক্যারলটন ও ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন এলাকার কয়েকটি অংশ দিয়ে মিছিল করে যেতে দেখা যায়। অন্যরা ইউএস ক্যাপিটল ভবনের সামনে গিয়ে জড়ো হন।  

মিছিলকারীদের কারও কারও হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, ড্রাম ও ঢাল দেখা গেছে। অল্প কয়েকজনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধকালীন বিচ্ছিন্নতাবাদী অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতীক কনফেডারেট পতাকা দেখা গেছে। এই পতাকাকে অনেকে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠতাবাদীদের পতাকা হিসেবে দেখে। ১৮৬১ সালে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গিয়ে দাসপ্রথা বজার রাখার চেষ্টা করেছিল আর তাতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। 

ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রো সিস্টেমে ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’ গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে একজন যাত্রী বসে আছেন। ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রো সিস্টেমে ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’ গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে একজন যাত্রী বসে আছেন

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে তাদের এই মিছিল বেশ উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের টেলিগ্রাম চ্যানেল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা শনিবারের অনুষ্ঠানগুলোতে চার শতাধিক শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী অংশ নেবে বলে আশা করছে। তারা এদিন সারাদিন ধরে তাদের মিছিলের ছবি বারবার পোস্ট করেছে। সেগুলোতে দেখা গেছে, মিছিলকারীরা ব্যান্ডের তালে তালে ‘আমেরিকা পুনরুদ্ধার করো’ বলে শ্লোগান দিচ্ছে। 

গোষ্ঠীটির ওয়েবসাইটে ‘আমাদের ইউরোপীয় জাতির এই দেশে জন্মগ্রহণকারী’ মানুষদেরকে তাদের ‘সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অধিকার’ প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানানো হয়।  

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম’ এর বিশেষজ্ঞরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেটি ‘যুক্তরাষ্ট্রে একটি শ্বেতাঙ্গ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়’ নিবেদিত।  

এই ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য সমালোচকরা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’-র মতো মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো, এই বর্ণবাদী বিশ্বাস অনুযায়ী ‘সংখ্যালঘুরা শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানদের স্থান দখল করে নিচ্ছে’।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দ্য রাইট’ সমাবেশের পর প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১১ ও ১২ অগাস্ট ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে এই সমাবেশটি আয়োজিত হয়েছিল। যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং উগ্র শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সমাবেশ হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: 

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন