১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার

যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকার মধ্যে সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি।

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 06:28 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই দেশের নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকার মধ্যে সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, বৈঠকে দুই দেশের যৌথ সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং উভয় দেশই তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে যৌথভাবে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছে।

 বৈঠকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাকচিসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়। 

ভারত ইরানের শীর্ষ দশটি বাণিজ্য অংশীদারের অন্যতম হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

এ পরিস্থিতিতে মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক রাখা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কেউ ইরানের ওপর হামলা করলে এর জবাব তারা দেবে।”

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভাল নয় উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ওদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার ওপর জোর দেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, ওই অঞ্চলের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহণ খরচ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগে এর প্রভাব পড়তে পারে। 

বৈঠকের আলোচনায় তাই জ্বালানি নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। তাছাড়া, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়। 

মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ, চাবাহার বন্দর এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও ইরান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

বর্তমান পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে সেই কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ভারতের জন্য বিকল্প যোগাযোগপথ এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।