১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজে চোখ রেখে লোহিত সাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বা সংঘাত থামলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি গড়তে একটি প্রস্তাব নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন।

হরমুজে চোখ রেখে লোহিত সাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
ফরাসী বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 May 2026, 01:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:34 PM

হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করার সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের একটি বহর মোতায়েন করেছে ফ্রান্স। 

বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব, তাতে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবরোধ তুলে নিতে দেওয়া প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতি বুধবার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। 

সোমবার হওয়া গুলি বিনিময়ে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই যে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ধমনী, সঙ্কীর্ণ ওই জলপথটির নিয়ন্ত্রণে নিতে হিমশিম খাচ্ছে; এ ঘটনা একইসঙ্গে চার সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গর যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে, সমুদ্রে পাল্টাপাল্টি অবরোধের স্থায়ীত্ব বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে, লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

“আজ যে আমাদের নতুন উদ্যোগ নিতে হচ্ছে তার কারণটা খুব সহজ। হরমুজে অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি যে ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং বৈরিতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যাবে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না,” ফরাসী সেনাবাহিনী বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের দেওয়া ব্রিফিংয়ে এমনটাই বলেন ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। 

পরিকল্পনাধীন ইঙ্গ-ফরাসী প্রস্তাব 

পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বা সংঘাত থামলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি গড়তে একটি প্রস্তাব নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। 

এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। 

প্রস্তুতিমূলক একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক দেশ এ হরমুজ অভিযানে অংশ নেওয়ার আগ্রহও ব্যক্ত করেছে। 

এক বিবৃতিতে ফরাসী সেনাবাহিনী বলেছে, শার্ল দ্য গল বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গী যুদ্ধজাহাজগুলো দক্ষিণ লোহিত সাগরের পথে রয়েছে। এ রণতরীর সঙ্গেই সাধারণত ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের যুদ্ধজাহাজগুলো থাকে।

এই রণতরী মোতায়েনের লক্ষ্য হল—আঞ্চলিক অপারেশনাল পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নিরাপত্তা জোরদারে সঙ্কট ব্যবস্থার বিকল্প বিস্তৃত করা, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা রূপরেখার মধ্যেই অংশীদার দেশগুলোর সম্পদ একীভূত করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ফের আশ্বস্ত করতে সহায়তা, বলেছে ফ্রান্সের সামরিক বাহিনী। 

“আমরা যা প্রস্তাব করছি, তা হল—ইরান প্রণালিটি দিয়ে তার জাহাজ আনা নেওয়া করতে পারবে, এর বদলে তাকে পারমাণবিক উপকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অঞ্চল (পশ্চিম এশিয়া) নিয়ে আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনার অঙ্গীকার করতে হবে। আমরা আমেরিকানদের প্রস্তাব করছি, তাদের অংশে, তারা হরমুজকে ঘিরে যে অবরোধ দিয়েছে তা তুলে নেবে, এর বদলে আলোচনায় বসতে ইরানের অঙ্গীকার পাবে।

“এসব শর্তের অধীনে আমরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল নিশ্চিতে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করতে পাররো, তবে এতে অবশ্যই যেটা লাগবে সেটা হল—ইরানিরা যেন জাহাজে গুলি না চালায়,” বলেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা।  

হরমুজ—ইরানের ‘তুরুপের তাস’

যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় যে হরমুজকে ইরান ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে, ফ্রান্স-ব্রিটেনের প্রস্তাবে তেহরান কেনইবা প্রণালিটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে, তা স্পষ্ট নয়। 

“আমরা সম্মিলিতভাবে এই সঙ্কেত পাঠাতে চাই যে—হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা দিতে কেবল প্রস্তুতই নই, আমরা তা করতেও সক্ষম। এখন মূল প্রশ্ন হল—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পাওয়া,” বলেছেন ওই ফরাসী কর্মকর্তা। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বেধে যায় ইউরোপের দেশগুলো মোটাদাগে তা থেকে গা বাঁচিয়ে চলতে চেয়েছিল। কিন্তু নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর পর নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখন তাদের সক্রিয় হতেই হচ্ছে। 

তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যে অবরোধ দিয়েছেন, তাতে সহায়তা করতে ইউরোপীয় দেশগুলো রাজি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের ওপর ক্ষিপ্তও হন, লোহিত সাগরে রণতরী পাঠানোকে তার ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে, বলছে রয়টার্স।