Published : 17 Dec 2025, 07:02 PM
কম্বোডিয়া সম্প্রতি থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমান্ত সংঘর্ষে `বিষাক্ত গ্যাস' ব্যবহারের অভিযোগ করেছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এক কম্বোডীয় সেনা এ ধরনের হামলার শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।
কম্বোডীয় সেনা কুন ইয়ং বলেছেন, সম্প্রতি তিনি সীমান্তে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। থাই বিমান থেকে হামলার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাকে সরে যেতে হয়েছে বলে জানান এই সেনা।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছিল আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
ডিসেম্বরের শুরু থেকে থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। এই সংঘর্ষে দুইদেশে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কয়েকদশকের মধ্যে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দুই দেশর মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র লড়াই।
কম্বোডিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় বান্টি মিঞ্চি প্রদেশে বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাই বিমান হামলার পর শ্বাসকষ্টে ভোগার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে।
তারা বলছে, থাই বিমান থেকে বিষাক্ত পানি ছোড়া হয়েছিল। ওদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় প্রায় প্রতিদিনই দাবি করে আসছে যে, থাই সেনাবাহিনী ‘বিষাক্ত গ্যাস’ব্যবহার করছে।
এমনকি বুধবারেই সেনা কুন ইয়াং যে গ্রামে ছিলেন, সেখানে সম্প্রতি এই গ্যাস হামলা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে।
এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, থাইল্যান্ডের আক্রমণের অন্যান্য কৌশলের মধ্যে এই গ্যাস হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে কম্বোডিয়া তাদের অভিযোগের সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি, গ্যাসটির নামও বলেনি। আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে এই গ্যাস ব্যবহার নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে কিনা তাও কম্বোডিয়া বলেনি।
কম্বোডিয়ার সরকার ও মন্ত্রণালয়ের কাছ এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তারা কোনও জবাব দেয়নি। কম্বোডিয়ার অভিযোগ রয়টার্সও নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি।
ওদিকে, থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে একে 'ভুয়া খবর' বলে অভিহিত করেছে। রয়টার্সকে থাই বিমান বাহিনীর মুখপাত্র এয়ার মার্শাল জ্যাকরিত থাম্মভিচাই বলেছেন, তারা কখনওই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেননি।
তিনি বলেন, “এটি যদি রাসায়নিক অস্ত্র হত, তাহলে তারা (সেনা) শ্বাসকষ্ট অনুভব করত না, বরং মারা যেত।”
এর আগে গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের সময় কম্বোডিয়া সাদা ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল থাই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
থাইল্যান্ড তাদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছিল। তবে বলেছিল, আন্তর্জাাতিক কনভেনশনের আওতায় এই অস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে গণ্য নয়।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর কথায়, সাদা ফসফরাসের ধোঁয়া মানুষের চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।