Published : 11 Dec 2025, 07:48 PM
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এর সাবেক প্রধান ফয়েজ হামিদকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপসহ চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত।
হামিদ গত বছরের অগাস্ট থেকে কাস্টডিতে ছিলেন এবং তার বিচার চলছিল। তিনি ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই –এর প্রধান ছিলেন,তখনকার প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে কারাবন্দি ইমরান খানের আমলে।
ইমরান এবং হামিদকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই দেখা হত। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, “চারটি অভিযোগে হামিদের বিচার করা হয়েছে।”
এগুলো হল: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ, রাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘন, ক্ষমতা ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং নাগরিকদের ক্ষতি সাধন।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, “দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ফয়েজ হামিদ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ঘোষিত রায়ে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
পাকিস্তানে কোনও আইএসআই প্রধানকে সামরিক আদালতে বিচার করে সাজা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শাসনামলে আইএসআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফয়েজ হামিদ।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শাল সব আইনি শর্ত পূরণ করেছে এবং অভিযুক্তকে তার পছন্দের আইনজীবীসহ সব অধিকার দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের এই রায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ফোরামে আপিল করার অধিকার রয়েছে।”
২০২৩ সালে মে মাসে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সামরিক স্থাপনা ও সরকারি অফিসগুলোতে তার সমর্থকদের হামলার ঘটনায় হামিদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটেও তিনি আলাদা তদন্তের মুখে রয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, হামিদ “সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন” এবং ইমরান খানের দলের উপদেষ্টা হিসেবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির করার চেষ্টা করেছিলেন।
হামিদের সাজার রায়ের পর তার পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এখনও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইমরান খান ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ইমরান খান ২০২২ সালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেছিলেন।
ফয়েজ হামিদের সঙ্গে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইমরান এবং সেনাবহিনীর মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে ছিল।
পাকিস্তানে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সরাসরি শাসন করে আসা সামরিক বাহিনী সরকার গঠন এমনকি সরকার পতনেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।