Published : 20 Sep 2025, 07:58 PM
দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের দায়িত্বরত এলাকায় কথিত মাদকবাহী একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালিয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তোলার পর থেকে ওই অঞ্চলে ট্রাম্প কথিত মাদকবাহী নৌযানের ওপর এটি মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় হামলা। এতে ওই নৌযানে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পর ট্রাম্প প্রশাসন ১০টি এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানকে ওই সমাবেশে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর গত শনিবার পাঁচটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ওই অঞ্চলের দ্বীপ পুয়ের্তো রিকোতে নামতে দেখা যায়।
শুক্রবার ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার নির্দেশে পেন্টাগন হামলাটি চালায়। এতে ‘নৌযানটিতে থাকা ৩ পুরুষ মাদক সন্ত্রাসী’ নিহত হয়।
তিনি বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে যে নৌযানটি অবৈধ মাদক পাচার করছিল এবং আমেরিকানদের বিষ প্রয়োগের জন্য একটি পরিচিত মাদক পাচারের রুট ধরে এগোচ্ছিল।”
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) হল দেশটির সামরিক বাহিনীর মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৩১ দেশকে পরিবেষ্টন করা যুদ্ধ কমান্ড।
নৌযানটিতে মাদক বহন করা হচ্ছিল, অভিযোগ করলেও ট্রাম্প এবারও এর কোনো প্রমাণ দেননি। তবে তার পোস্ট করা উপর থেকে ধারণ করা এক মিনিটের দুটি পাশাপাশি ভিডিওতে (একটি রঙিন ও অন্যটি সাদাকালো) দেখা যায়, একটি নৌযান পানির মধ্যে দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আর সেটিকে সম্ভবত একটি যুদ্ধবিমান থেকে লক্ষ্যস্থল করা হচ্ছে। প্রায় আধাআধি পার হওয়ার পর নৌযানটিতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানা হয় আর সেটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।
নৌযানটি কোথা থেকে রওনা হয়েছিল আর ঠিক কোথায় এর ওপর আঘাত হানা হয়েছে, সেসব বিষয়ে ট্রাম্প কিছু জানাননি।
এফ-৩৫ এর পাশাপাশি দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ মোতায়েন করা আছে।
এর আগে গত সোমবার দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ ধরনের আরেকটি নৌযানে আঘাত হেনেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তখন ট্রাম্প ওই নৌযানটিকে ভেনেজুয়েলার মাদক অপরাধী চক্রের মাদকবাহী নৌযান আর সেটি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করেছিলেন।
দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলার প্রথম নৌযানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত হেনেছিল। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই আক্রমণের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন ওই ঘটনার বিষয়ে খুব অল্প তথ্য দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ওই নৌযানে ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়া অপরাধী দলের সদস্যরা ছিল আর হামলার ১১ জন নিহত হয়েছেন।
ক্যারিবীয় সাগরে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ মাসের শুরুতে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলে অবস্থানরত নৌসেনা ও মেরিনদের বলেন, তারা প্রশিক্ষণের জন্য নয়, বরং ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাদকবিরোধী অভিযানের ফ্রন্টলাইনে’ তাদের মোতায়েন করা হয়েছেন।
আইন ও মানবাধিকার প্রশ্ন
সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের ক্রুদের আটক না করে তাদের ধ্বংস করার সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, তবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টরা বহুবার কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই হামলাগুলোকে “অবৈধ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” বলে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির ওয়াশিংটন ডিসির পরিচালক সারা ইয়াগার এক বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন কর্মকর্তারা শুধুমাত্র মাদক পাচারের অভিযোগে কাউকে হত্যা করতে পারেন না। এটি কোনো সশস্ত্র সংঘাত নয়, তাই যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না।”
ভেনিজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবারও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন সম্প্রতি মাদুরোর গ্রেপ্তারে তথ্যের জন্য পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলার করেছে। মাদুরো মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলার আরেকটি 'মাদকবাহী' নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৩