১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত তৃতীয় দিনে, উত্তেজনা প্রশমনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে, যদিও কারও দাবিই স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যাচ্ছে না।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত তৃতীয় দিনে, উত্তেজনা প্রশমনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ
আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের করাচিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Feb 2026, 04:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের তালেবান সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াই শনিবার তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানালেও রাতভর দুই দেশ সীমান্তে একে অপরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার পাকিস্তানের বিমান কাবুল ও কান্দাহারসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে তালেবান সামরিক স্থাপনা ও সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হেনেছে। 

গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিবেশী দেশটির এত গভীরে পাকিস্তান আর কখনো হামলা করেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, তালেবানরা তাদের ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে নানান সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত। 

তবে তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে আফগানিস্তানকে দায়ী করছে। তারা ইসলামাবাদের হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে।

লড়াই থামানোর লক্ষ্যে শুক্রবার রাত থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা গতি পেয়েছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলাপ করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, রাশিয়া ও চীন উভয় পক্ষকে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তান এই পরিস্থিতিতে ‘আগ্রাসনকারী’ নয় বরং নিজেদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চাপের মুখে রয়েছে।

এর মধ্যেও সীমান্তে রাতভর গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বরছে, তাদের ‘গজব লিল হক’ অভিযানে তালেবানের একাধিক চৌকি ও ক্যাম্প ধ্বংস হয়েছে। 

উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে, তবে রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে সেসব দাবি যাচাই করতে পারেনি।

পাকিস্তান বলছে, তাদের ১২ জন সৈন্য এবং ২৭৪ জন তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে। বিপরীতে তালেবান দাবি করেছে, তাদের ১৩ জন যোদ্ধা এবং পাকিস্তানের ৫৫ জন সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে। এর বাইরে খোস্ত ও পাক্তিকায় ১৯ বেসামরিক নাগরিক নিহতেরও খবর দিয়েছে তালেবান।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়েছে।” 

আর তালেবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এক বক্তৃতায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত ‘চড়া মূল্য’ বয়ে আনবে।

সামরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে থাকলেও, দীর্ঘ দুই দশক মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা তালেবান যোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধে অত্যন্ত অভিজ্ঞ।