১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলের হামলায় একসঙ্গে ৯ সন্তানকে হারালেন গাজার চিকিৎসক

শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, গাজায় শুক্রবার দুপুর থেকে ২৪ ঘণ্টায় তারা ১০০টিরও বেশি নিশানায় আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলের হামলায় একসঙ্গে ৯ সন্তানকে হারালেন গাজার চিকিৎসক
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত শিশুর দেহ আঁকড়ে মা। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 May 2025, 09:39 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:42 PM

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১০ সন্তানের মধ্যে একসঙ্গে ৯ সন্তানকেই হারিয়েছেন গাজার এক চিকিৎসক। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালে কাজ করা চিকিৎসক আলা-আল-নাজ্জারের পরিবারে ঘটেছে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা।

হাসপাতালের ডিউটিতে থাকার কারণে তিনি বেঁচে যান। হামলার দিন শুক্রবার তিনি হাসপাতালেই ইসরায়েলের হামলায় আহত গাজাবাসীর চিকিৎসা করছিলেন। সে সময়ই বাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলার খবর পান নাজ্জার। বিস্ফোরণে জ্বলে যাওয়া ছোট ছোট শিশুদের দেহ নিয়ে আসা হয়েছিল নাসের হাসপাতালেই।

শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, গাজায় ১০০টিরও বেশি নিশানায় তারা আঘাত হেনেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসি জানায়, আলা আল-নাজ্জারের স্বামী তাকে হাসপাতালের কাজে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরই ইসরায়েলের বোমা হামলা হয়।

১০ সন্তান নিয়ে বাড়িতে থাকার সময়ই এই হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় বাড়ি। ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই মারা যায়। মৃত সন্তানদের সবারই বয়স ৬-১২ বছরের মধ্যে।

খান ইউনিস শহরের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসক নাজ্জারের স্বামী এবং ১১ বছর বয়সী এক সন্তানকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির চিকিৎসা চলছে। আর শিশুর বাবা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে ইন্সটাগ্রামে এক ভিডিও পোস্টে জানিয়েছেন নাসের হাসপাতালের এক ব্রিটিশ সার্জন।

গত শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, গাজার মানুষ যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি গত মার্চ থেকে গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ জারি রাখারও নিন্দা করেন।

সব জিম্মিকে ছেড়ে দিতে হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে তেল আবিব গত ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

ভূখণ্ডটির ৫ লাখ মানুষ এখন অনাহারের মুখে রয়েছে বলে গত সোমবার বৈশ্বিক একটি ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সতর্ক করেছিল। জাতিসংঘ থেকে ত্রাণ পাঠানো শুরু হলেও তা গাজার সব জায়গায় পৌঁছতে পারছে না বলে শোনা যাচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও আড়াইশ জনকে জিম্মি করার পর তেল আবিব গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধে নামে।

এরপর থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় ৫৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।