থাইল্যান্ডে রানির মত পোশাক পরে বিক্ষোভ, এক নারীর কারাদণ্ড

সাজা পাওয়া নারী জাতুপর্ন সাইউয়েং ২০২০ ‍সালে ব্যাংককে একটি বিক্ষোভে গোলাপী রঙের পোশাক পরে অংশ নেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 04:10 PM
Updated : 13 Sept 2022, 04:10 PM

থাইল্যান্ডের রানির মত পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাজপরিবারকে অপমান করেছেন এমন অভিযোগে এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

সোমবার সাজা পাওয়া ওই নারীর নাম জাতুপর্ন ‘নিউ’ সাইউয়েং, বয়স ২৫ বছর। তিনি ২০২০ ‍সালে ব্যাংককে একটি বিক্ষোভে গোলাপী রঙের পোশাক পরে অংশ নিয়েছিলেন।

জাতুপর্ন অবশ্য রানিকে অসম্মান বা বিদ্রুপ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু দেশটির ঐতিহ্যবাহী একটি পোশাক পরেছিলেন।

থাইল্যান্ডে রাজা এবং রাজপরিবারকে নিয়ে কোনও ধরণের সমালোচনা সম্পর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে দেশটিতে কঠোর আইন জারি আছে।

২০১৬ সালে থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের মৃত্যু হলে রাজা হন তার ছেলে মাহা ভাজিরালংকর্ণ। রাজা ভূমিবল দেশটির জনগণের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হলেও তার ছেলে বর্তমান রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণকে তারা খুব একটি সুনজরে দেখেন না।

২০১৯ সালে মাহা ভাজিরালংকর্ণের রাজ অভিষেকের পর থাইল্যান্ডে রাজপরিবারকে অবমাননাসংক্রান্ত আইনের ব্যবহার বেড়ে যায়।

দেশটির আইনি সংগঠনগুলোর তথ্য‍ানুযায়ী, রাজপরিবারকে অবমাননা সংক্রান্ত আইনে সে দেশে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে কমপক্ষে ২১০ জন বিক্ষোভকারীকে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ তার আগের তিন বছরে আইনটি একেবারেই কার্যকর হতে দেখা যায়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাজা মাহার আমলে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনের ক্রমাগত এ আইনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

থাই বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী রাজতন্ত্রে সংস্কার আনার দাবি বিক্ষোভ করেছেন। জাতুপর্নকে করাদণ্ড দেয়ার রায়েরও তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বিবিসি জানায়, তাকে প্রথমে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজা কমিয়ে দুই বছর করা হয়।

জাতুপর্ন ২০২০ সালে একটি প্রতীকী ফ্যাশন শো তে অংশ নিয়েছিলেন। তার দিন কয়েক আগে রাজা মাহার মেয়ে একটি ফ্যাশন শো করেছিলেন।

প্রতীকী ফ্যাশন শো তে জাতুপর্ন যে ধরনের পোশাক পরেছিলেন থাই রাজার স্ত্রী রানি সুথিদা প্রায়ই জনসম্মুখে সে ধরনের পোশাক পরে উপস্থিত হন। ফ্যাশন শোতে জাতুপর্নের মাথায় একজন ছাতা ধরে ছিলেন।

ঠিক যেমন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজপরিবারের সদস্যদের মাথার ওপর অন্য কাউকে ছাতা ধরে থাকতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিদ্রূপ করে প্রতীকী ফ্যাশন শোয়ের ওই আয়োজন পথ উৎসবের মতোই একটি শান্তিপূর্ণ আয়োজন ছিল। কোনও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাই রাজপরিবারের সমালোচনা করায় এক ব্যক্তিকে ৪৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সোমবার রায় ঘোষণার আগে এক সাক্ষাৎকারে জাতুপর্ন বলেছিলেন, ‘‘কাউকে বিদ্রুপ করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। ওই দিন আমি নিজের জন্যই পোশাক পরেছিলাম। থাই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে আমাকে দেখতে কেমন লাগে সেটা দেখতে চেয়েছিলাম।”

রাজপরিবারকে অবমাননাসংক্রান্ত আইন নিয়ে রাজপ্রাসাদ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক