Published : 23 Nov 2023, 12:51 PM
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশকে যুক্ত করা সেতুতে দ্রুতগামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবারের এ ঘটনায় ওই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ভীতি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার চারটি সীমান্ত ক্রসিং এবং নিউ ইয়র্কের বাফেলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, তদন্তকারীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পায়নি; তারপরও রেইনবো ব্রিজের দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি ঘোলাটে রয়ে গিয়েছিল, এটি ইচ্ছাকৃত না দুর্ঘটনাই তা নিয়ে বিভ্রান্তি বিরাজ করছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকল সাংবাদিকদের বলেন, “এই মুহূর্তে সন্ত্রাসী হামলার কোনো ইঙ্গিত নেই।”
‘জনসাধারণের জন্য কোনো হুমকি নেই’, তার এমন মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পৃথক সংবাদ সম্মেলনেও উচ্চারিত হয়।
দুর্ঘটনাটির পুরো চিত্র ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টম ও বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) সংস্থা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেছে। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে অতি দ্রুত বেগে একটা গাড়ি ধেয়ে আসছে, তারপর কিছু একটায় ধাক্কা খেয়ে উড়ে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয় আর তাতে আগুন ধরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মাইন গুনথার বাফেলোর স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, তিনি ও তার স্ত্রী রেইনবো সেতুর কাছ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে থেকে উচ্চ গতিতে এসে সীমান্ত ক্রসিংয়ের বেড়ায় ধাক্কা খায় আর শূন্যে উড়ে যাওয়ার পর পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
গাড়িটি একটি বিলাসবহুল সেডান ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “সেটি ঘণ্টায় ১০০ মাইলেও বেশি বেগে উড়ছিল। তারপর একপাশে কাত হয়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। আগুনের কুণ্ডুলি ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচুতে উঠে গিয়েছিল, আমি কখনো এরকম কিছু দেখিনি।”
রয়টার্স বলছে, যে দুইজন নিহত হয়েছেন কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় জানায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক ছিলেন একজন ৫৬ বছর বয়সী পুরুষ, তিনি একটি বেন্টলি সেডান গাড়িতে করে স্ত্রীকে নিয়ে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছিলেন।
গভর্নর হোকল জানান, গাড়িটি ৮ ফুট উঁচু একটি বেড়ায় গিয়ে ধাক্কা খায় এরপর উড়ে দিয়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয় আর আগুন ধরে সেটি পুড়ে যায়। গাড়ির ইঞ্জিন ছাড়া সবকিছু উড়ে গিয়ে রেইনবো সেতুর এক ডজনেরও বেশি নিরাপত্তা বুথের ওপর গিয়ে পড়ে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান লড়াইয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এরমধ্যে রেইনবো সেতুর এই দুর্ঘটনা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ মাইল দক্ষিণে বাফেলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওঠা-নামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নায়াগ্রা নদীর ওপরের রেইনবো সেতুসহ আরও তিনটি সীমান্ত সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যান্য সীমান্ত ক্রসিংগুলো খোলা থাকলেও সেগুলোতে উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়।