৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রি’র সামিল বললেন রাহুল গান্ধী

দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একাধিক বিষয় তুলে ধরে লোকসভায় সমালোচনা করেছেন বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রি’র সামিল বললেন রাহুল গান্ধী
লোকসভায় কথা বলছেন রাহুল গান্ধী। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2026, 06:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:55 PM

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধীদল কংগ্রেস। 

বুধবার লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে মোদী সরকার। তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।

রাহুলের অভিযোগ, মূল্য-সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধ বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিয়ে কেন্দ্র সরকার কার্যত “ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে”। তার প্রশ্ন, “দেশ বিক্রি করে দিতে লজ্জা করল না?”

দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একাধিক বিষয় তুলে ধরে সমালোচনা করেছেন রাহুল। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত ব্লক আলোচনায় বসলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বলতেন সমানে সমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হোক। আমরা চাকর নই।”

লোকসভায় বিরোধী এই দলনেতা বলেন, চুক্তির সময় দেশের সম্মান ও সার্বভৌমত্বের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বাণিজ্য চুক্তির একের পর এক শর্ত তুলে ধরে আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল।

তার মতে, ভারতের বাজারে মার্কিন পণ্য প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দেশের কোটি কোটি কৃষকের পেটে লাথি মেরে আদতে লাভ করানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চাষীদের। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বা প্রান্তিক মালিকানাধীন কৃষকদের এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবিকা বিপন্ন করা হচ্ছে।

রাহুলের কথায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক কমিয়েছে বলে প্রচুর প্রচার চলছে।  কিন্তু আদতে ২০২৫-সালের আগে আরোপিত ৩ শতাংশ শুল্ক বর্তমানে ১৮ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। মানে ছয় গুণ বেড়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের আরোপিত শুল্ক ১৬ শতাংশ থেকে কমে শূন্যে নেমে এসেছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের পারষ্পরিক শুল্ক ঘোষণার সময় তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেছেন রাহুল। পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গও তোলেন।

রাহুলের আরও অভিযোগ, এই চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের আমদানি ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলে দাবি তার। 

রাহুল বলেন, “অদ্ভুত ব্যাপার! আমরা ওদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু ওরা আমাদেরকে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলাম আমরা। আমাদের উপর শুল্ক বেড়ে ৩ থেকে ১৮ হল। আর ওদের ১৬ থেকে ০-এ নেমে এল। দেশের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন করেননি।”

এ সময় পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু হস্তক্ষেপ করে রাহুলকে তথ্য-প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানান। তার দাবি, ২০১৪ সালের আগে কংগ্রেসই ভারতকে দুর্বল করেছিল। 

রিজিজু বলেন, “ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বলেই কংগ্রেস এখন অখুশি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 গত সপ্তাহে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটে। দুই দেশ এ সংক্রান্ত যে রূপরেখা ঘোষণা করেছে, তাতে নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটন পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস, জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।

রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে। যার মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস, কয়লা, বিমান ও যন্ত্রাংশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্য।

বিনিময়ে ভারত সব ধরণের মার্কিন শিল্পজাত পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও কৃষি পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করবে। তবে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, জুতা ও প্লাস্টিকসহ বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক হার বহাল থাকবে।