Published : 03 Jun 2025, 01:34 PM
পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হারার পর পদত্যাগ করেছেন মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী লুভাসান্নামস্রাইন ওয়ুন-এর্দেন।
তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কয়েকদিনের গণবিক্ষোভের পর এ আস্থা ভোট হল।
ওয়ুন-এর্দেনের ছেলের জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিনের পার্টি ও বাগদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা ওই গণবিক্ষোভ উসকে দিয়েছিল, বলছে বিবিসি।
২০২১ সালে ক্ষমতায় বসা ওয়ুন-এর্দেন পদত্যাগ করলেও আপাতত তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তার উত্তরসূরী বেছে নেওয়া হবে।
“মহামারী, যুদ্ধ ও শুল্কসহ কঠিন সময়ে দেশ ও জনগণকে সেবা করাটা ছিল সম্মানের,” ভোটের পর বলেছেন ওয়ুন-এর্দেন।
১২৬ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে তার ন্যূনতম ৬৪ ভোট লাগতো। কিন্তু আস্থা ভোটে রায়-ই জানান ৮২ আইনপ্রণেতা। তার মধ্যে ৪৪ জন ওয়ুন-এর্দেনের পক্ষ নেন, ৩৮ জন যান বিপক্ষে।
পরে মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়া পার্লামেন্ট জানায়, অনাস্থা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত না হওয়ায় ওয়ুন-এর্দেন নিজেই পদত্যাগ করেছেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
ভোটের আগে দুই সপ্তাহ ধরে ওয়ুন-এর্দেনের পদত্যাগ দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ দেখেছে মঙ্গোলিয়া। এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বয়সে তরুণ।
বিক্ষোভকারীরা ওয়ুন-এর্দেনের ছেলের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনের দিকে আঙুল তুলে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
ওয়ুন-এর্দেন তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বিরোধীরা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
গত মাসে তার বিরুদ্ধে রাজধানী উলানবাটারের সুখবাটার চত্বরেও বিক্ষোভ হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ওয়ুন-এর্দেন ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে মঙ্গোলিয়ায় দুর্নীতি পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সরকারি স্বচ্ছতার দিক থেকে গত বছর দেশটি ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১৪তম হয়েছিল।
চীন ও রাশিয়ার মাঝে ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে থাকা সাবেক এ কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি ১৯৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর গণতন্ত্রে রূপান্তরের পথে থাকলেও দুর্নীতিই এখন তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা।