উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নারীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ দিল ইরান
জানফাদা’ বা ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শীর্ষক স্বেচ্ছাসেবী অভিযানের আওতায় এই প্রশিক্ষণ ছিল নারীদের জন্য প্রথম বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ইরানে জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে নারীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে বাছাই করা নারীদেরকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফাদা’ বা ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শীর্ষক স্বেচ্ছাসেবী অভিযানের আওতায় এই প্রশিক্ষণ ছিল নারীদের জন্য প্রথম বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে ইরান দেশব্যাপী বিস্তৃত পরিসরে এই স্বেচ্ছাসেবী জনবল সংগ্রহের অভিযান শুরু করেছে।
‘স্যাক্রিফিশিয়াল ভলান্টিয়ার্স’ প্রচারাভিযানের মুখপাত্র সাসান জারে বলেন, ইমাম হোসেইন স্কয়ারে এমন মানুষরাও আছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তারা ইরানে এসে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগ্রহী।”
ইরানে বাস করা বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকেও অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বহু আবেদন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।”
৪৫ বছর বয়সী প্রশিক্ষণার্থী রাহেলে ঘাদিরি বলেন, যুদ্ধের সময় অস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের পরিবার ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা তার ভয় কমাতে সহায়ক হবে।
এটি ছিল বিশেষভাবে নারীদের জন্য আয়োজিত প্রথম সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্স। কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষকেরা রাইফেল ও হ্যান্ডগানসহ বিভিন্ন অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করতে হয় তা শেখানোর চেষ্টা করছিলেন পাশাপাশি জরুরি অবস্থা এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে সাড়া দিতে হয় বা মোকাবেলা করতে হয় তারও প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।"
“নাগরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি একটি সাধারণ সংহতি অভিযানের পরে শুরু হয়েছে, যেখানে ইরান জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানিয়েছে।
এর একদিন আগে ইরান হাফত-এ তীর স্কয়ারে আরেকটি বেসামরিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে। সেপ্টেম্বরে ‘জানফাদা-ই ইরান’ প্রচারাভিযানের সঙ্গে যুক্ত সরকারি সমাবেশে তেহরানে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেয়।
মার্কিন তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট গত সপ্তাহেই সান ডিয়াগোর ঘাঁটি ছেড়ে যাত্রা করেছে। রণতরীটি অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে পারস্য উপসাগরে পৌঁছাতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে তিনি খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিও সতর্ক করে বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে এর পরিণতি পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
