০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজ গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের হামলাকারী কো-পাইলটের লক্ষ্য ছিল তেল আবিবে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানেই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করাতে চেয়েছিলেন তিনি।

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজ গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 10:36 PM

Updated : 06 Oct 2026, 10:35 PM

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজের ককপিটে পাইলটদের মারামরির পর ১৫০ জনের বেশি ইসরায়েলি যাত্রী থাকার পরও সেটি গুলি করে ভূপাতিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুই ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফ্লাইট ১০৭৩’-এর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু,উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন ও যাত্রীরা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) টুইন টাওয়ারের ঘটনার মতো সম্ভাব্য ছিনতাই বা আকাশপথের সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রটোকল রয়েছে।

সূত্রের দাবি, ৯/১১-র মতো পরিস্থিতি কোনও দিন তৈরি হলে, তা এড়ানোর জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

উড়োজাহাজটি আচমকা ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ার পর ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ককপিটে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ফলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি জরুরি কমিটি গঠন ও কমান্ড সেন্টার সক্রিয় করা হয়। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান জরুরিভিত্তিতে আকাশে ওড়ানো হয় এবং দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে উড়োজাহাজটি ইসরায়েল থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরে থাকতে দিক পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে মোড় নিলে এবং সৌদিরা নিজেদের যুদ্ধবিমান পাঠালে ইসরায়েল তাদের বিমান ফিরিয়ে নেয়।

সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, ফ্লাইটটি নির্দিষ্ট দূরত্বে চলে এলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ককপিট ও যাত্রীবাহী কেবিনের ভেতরের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছিল।

যদি বিমানটি ছিনতাই হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যেত এবং ছিনতাইকারীরা বেতার যোগাযোগ না রেখে কোনও দাবি পেশ না করত, তবে বিশেষ কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে যুক্ত করত।

প্রটোকল অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি তেল আবিবের বিখ্যাত আজরিইলি টাওয়ার, বিমানবন্দর বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আছড়ে পড়ে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার চেয়ে আকাশে গুলি করে ধ্বংস করাকে কম ক্ষতিকর মনে করা হয়।

তবে বিমানটি গুলি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল প্রধানমন্ত্রীরই থাকে।

ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, উড়োজাহাজের আহত পাইলট সহকারী পাইলটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন।

এরপর বিমানে থাকা কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মীরা হামলাকারী সহকারী পাইলটকে ধরে কাবু করেন।

পরে বিমানে যাত্রী হিসেবে সফররত দুই ‘অফ-ডিউটি’ পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করান।

ইসরায়েলের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, এটি ছিল একক ব্যক্তিভিত্তিক বা ‘লোন-উলফ’ হামলা। হামলাকারী সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক হামাম আল হামামি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেছেন, ফ্লাইদুবাইতে চাকরি নেওয়ার আগেই তিনি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর আগেও তিনি ইসরায়েলে বিমান চালিয়ে গেছেন।