১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সময়সীমা শেষের আগে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠক

ইউক্রেইনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন।  এই সময়সীমা শুক্রবারেই শেষ হতে চলেছে।

সময়সীমা শেষের আগে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠক
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2025, 06:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:31 PM

ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য মস্কোকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

রুশ সংবাদমাধ্যম বলছে, বুধবার দিনের শুরুতে উইটকফ মস্কো পৌঁছান। এরপর ক্রেমলিনে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠক হয়। প্রকাশিত ছবিতে পুতিন ও উইটকফকে একটি হলঘরে হাসিমুখে করমর্দন করতে দেখা গেছে।

ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতিতে পুতিন ১০ দিনের মধ্যে রাজি না হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপরও  নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। 

এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী শুক্রবার। তবে এই সময়ের মধ্যে কোনও চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রত্যাশা কম। ওদিকে, রাশিয়া ইউক্রেইনে আকাশপথে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চাইলে একদিনেই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। কিন্তু সে দাবি পূরণ হয়নি, বরং রাশিয়ার প্রতি তার অবস্থান এখন আগের চেয়ে কঠোর।

গত মাসে এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেকবারই ভেবেছিলাম যুদ্ধ থেমে গেছে। তারপর প্রেসিডেন্ট পুতিন কিইভের মতো কোনও শহরে রকেট হামলা চালান, নার্সিং হোমে থাকা অনেক মানুষ মারা যায়।”

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মনে করেন, রাশিয়ার অর্থনীতি চাপে না পড়া পর্যন্ত তারা শান্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেবে না। তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর আগে তুরস্কের ইস্তানবুলে ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা হলেও যুদ্ধ বন্ধের কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক শর্তগুলো কিইভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে এখনও ‘অগ্রহণযোগ্য’।

কিইভের পক্ষ থেকে পুতিন-জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব বহুবার দিলেও ক্রেমলিন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৈঠকের আগের দিন মঙ্গলবার ট্রাম্প-জেলেনস্কি ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনের জন্য আরও ২০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে। ফোনালাপে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও ড্রোন উৎপাদন নিয়েও আলোচনা করেন।

ইউক্রেইন বর্তমানে রুশ তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, আর রাশিয়া আকাশপথে ইউক্রেইনের শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

কিইভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, গত সপ্তাহের এক হামলায় আহত এক ব্যক্তি মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে, যা ইউক্রেইন আক্রমণের পর শহরটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

এছাড়া, বুধবার ইউক্রেইনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি অবকাশ কেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো রুশ হামলায় দুইজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

“এই হামলার কোনও সামরিক যৌক্তিকতা নেই, এটি নিছক নির্মমতা, মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানোই একমাত্র উদ্দেশ্য,” বলেন জেলেনস্কি।