১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া মহড়া চলাকালে সাগরে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

সিউল-ওয়াশিংটন মহড়া নিয়ে প্রতিনিয়তই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে উত্তর কোরিয়া। তাদের ভাষ্য, এ মহড়াগুলো মূলত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসনের ‘ড্রেস রিহার্সাল’।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া মহড়া চলাকালে সাগরে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়াকে আলাদা করা অসামরিক অঞ্চলের কাছে ইয়োনচিয়োনে ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এ মহড়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Mar 2026, 05:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:09 PM

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া চলাকালে সমুদ্রে ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।

পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সংলাপে বসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আগ্রহের কথা জানা যাওয়ার পর শনিবার এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হল, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

জাপানের কোস্ট গার্ড বলেছে, তারা অন্তত একটি প্রজেক্টাইল সমুদ্রে পড়া শনাক্ত করেছে, ওই প্রজেক্টাইলটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলেই তাদের অনুমান।

এটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে বলে সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছের একটি এলাকা থেকে স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে ছোড়া হয়, বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। 

উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের বাহক তৈরি করতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নানান ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ‍পরীক্ষা-উৎক্ষেপণ চালিয়ে আসছে। উত্তর কোরিয়া সফলভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করতে পেরেছে বলে মনে করা হয়। তবে তাদের কাছে এই অস্ত্র কী পরিমাণ আছে তা জানা যায়নি।  

পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে দেশটি ২০০৬ সাল থেকেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের বাণিজ্য, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হলেও তারা পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে নারাজ। 

দিনকয়েক আগে থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউল ও ওয়াশিংটনের বার্ষিক বড় এক সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে ‘পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক’ এ মহড়া হচ্ছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। 

দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়াকে আলাদা করা অসামরিক অঞ্চলের কাছে ইয়োনচিয়োনে ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এ মহড়া হচ্ছে।

মহড়ার অংশ হিসেবে শনিবার দেশদুটির কয়েকশ সেনা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযানসহ নানান সরঞ্জাম নিয়ে নদী পারাপারের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে। যৌথ বাহিনীর কমান্ডার এই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ২৮ হাজারের মতো সৈন্য ও যুদ্ধবিমানের বহর সবসময়ই থাকে।

এ ধরনের মহড়া নিয়ে নিয়মিতই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে উত্তর কোরিয়া। তাদের ভাষ্য, এ মহড়াগুলো মূলত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসনের ‘ড্রেস রিহার্সাল’। 

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ‍উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরুর পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন।  

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বসার যে কোনো সুযোগই প্রেসিডেন্ট কাজে লাগাতে চান, সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন দক্ষিণের প্রধানমন্ত্রী কিম।