Published : 07 Sep 2026, 01:07 PM
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দ্রুত এগিয়ে প্রথমস্থানে উঠে এসেছে, বুথফেরত জরিপে এমনটি দেখা গেছে।
রোববারের এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জার্মানির একটি কট্টরপন্থি দল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রাজ্য পর্যায়ের ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেল।
রয়টার্স জানিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে থাকলেও এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোট গণনা চলতে থাকায়, এএফডি সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি।
এএফডির এই সাফল্য জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের রক্ষণশীল জোটকে শোচনীয় পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছে। এতে জার্মানির খণ্ডিত হতে থাকা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন জোটের চরম অজনপ্রিয়তা প্রতিফলিত হয়েছে।
জার্মানির জাতীয় পর্যায়ে এএফডি ইতোমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের কর্মসূচী এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এসব কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, ইউক্রেইনের প্রতি সমর্থন হ্রাস করা এবং ইউরো ত্যাগ করা।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ট (৩৫) বলেছেন, “আমরা এই দেশে ইতিহাস তৈরি করেছি।”
নির্বাচনী প্রচারণাকালে জিগমুন্টের জনসভাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছে। তিনি স্যাক্সনি-আনহাল্টে বারবার জয়লাভ করেছেন। তিনি তার এই সাফল্যকে ২০২৯ সালে হতে যাওয়া ফেডারেল নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় ক্ষমতা দখলের পথে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
জিগমুন্ট বলেন, “জনগণ একদম পরিষ্কার করে দিয়েছে যে তারা চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তারা দেখিয়েছে যে তারা এটি আমাদের নিয়ে করতে চায়।”
বুথ ফেরত প্রথম জরিপ প্রকাশ হওয়ার পর রোববার রাতে মাগডেবুর্গ শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জিগমুন্ট তার দলের জাতীয় পর্যায়ের দুই নেতার সঙ্গে হাতে হাত বেঁধে দাঁড়ান, জয়ের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠার আনন্দে হাসছিলেন তারা। এখানে দলের জমায়েতে বাঁধভাঙা উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভোটের ফলাফলের একটি স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কোনো মন্তব্য ছাড়াই পোস্ট করেন। এএফডির এই সাফল্যে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর কট্টর ডানপন্থি নেতারা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এই নির্বাচনকে ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায়’ বলে বিবেচনা করছেন তারা।
নির্বাচনের এই ফলাফল জার্মানির চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের জন্য এক উল্লেখযোগ্য বিপর্যয়। অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।