১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ শতকের ‘শেষ ফ্যাশন সম্রাট’ ভালেনটিনো গ্যারাভানির জীবনাবসান

“তিনি সবচেয়ে ফ্যাশনেবল বা সবচেয়ে আধুনিক ডিজাইনার হওয়াকে খুব একটা পাত্তা দিতেন না।”

২০ শতকের ‘শেষ ফ্যাশন সম্রাট’ ভালেনটিনো গ্যারাভানির জীবনাবসান
ভালেনটিনো গ্যারাভানি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jan 2026, 01:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:36 PM

বিংশ শতকের কিংবদন্তি ফ্যাশন ডিজাইনারদের শেষ প্রতিনিধি ভালেনটিনো গ্যারাভানি আর নেই; তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ভালেনটিনো গ্যারাভানি ছিলেন এমন একজন ডিজাইনার, যিনি প্রজাতন্ত্রের যুগে রাজকীয়তার এক বিশেষ চিত্রকল্প নির্মাণ করে গেছেন পোশাকের নকশায়। 

মুকুটধারী ও সিংহাসনচ্যুত রাজকুমারী থেকে শুরু করে হলিউড নায়িকা আর সমাজের অভিজাত নারীদের পোশাকশৈলীতে রাজকীয়তার ছাপ রেখে যাওয়া এই ফ্যাশন ডিজাইনার ছিলেন ফ্যাশন দুনিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ইতালীয় এই ফ্যাশন ডিজাইনার শুধু ‘ভালেনটিনো’ নামেই ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত ছিলেন। এলিজাবেথ টেলর, ন্যান্সি রেগান, শ্যারন স্টোন, জুলিয়া রবার্টস ও গুইনেথ পালট্রোর মত বহু তারকা ও খ্যাতনামা ব্যক্তি তার নকশায় তৈরি পোশাক পরেছেন।

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভালেনটিনো ফ্যাশন হাউসের সহ-প্রতিষ্ঠা ছিলেন ভালেনটিনো। পেশাগত জীবনে তার অবস্থান ছিল জর্জিও আরমানি ও কার্ল ল্যাগারফেল্ডের সমপর্যায়ে।

ভালেনটিনো গ্যারাভানি ও জানকার্লো জা’মিত্তি ফাউন্ডেশন ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেছে, সোমবার রোমে নিজের বাড়িতে স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২১ ও ২২ জানুয়ারি রোমের পিয়াজা মিনিয়ানেল্লিতে ভালেনটিনোর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

ভালেনটিনো গ্যারাভানি। ছবি: রয়টার্স

ভালেনটিনো গ্যারাভানি

পরদিন বাসিলিকা অব সেন্ট মেরি অব দ্য অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড মারটায়ারস গির্জায় তার শেষকৃত্য হবে।

১৯৩২ সালের মে মাসে লোম্বার্ডিতে জন্ম নেওয়া ভালেনটিনো তার বিলাসবহুল ও প্রাচুর্যপূর্ণ সংগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি প্যারিসে গিয়ে শঁম্ব সান্ডিকাল দো লা কুটু পাহিজিয়ানে পড়াশোনা করেন এবং পরে জাক ফাথ, বালেনচিয়াগা, জঁ দেসেস ও গি লাহোশের মতো ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেন।

স্পেন ভ্রমণ থেকে অনুপ্রাণিত ‘ভালেনটিনো রেড’ রং তার ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়, বিশেষ করে আইকনিক ফিয়েস্তা ড্রেসের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে।

এই রঙ ফ্যাশন হাউসটির কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, ২০০৮ সালে ভালেনটিনোর শেষ সংগ্রহের চূড়ান্ত পর্বে সব মডেল লাল পোশাক পরেছিলেন।

২০১৩ সালের জুনে সুইডেনের প্রিন্সেস ম্যাডেলিন যখন ব্রিটিশ-আমেরিকান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার ও’নিলকে বিয়ে করেন, তখন তার বিয়ের পোশাকটি নকশা করেছিলেন ভালেনটিনো।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ব্রিটিশ ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে তাকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

ব্রিটিশ ভোগের সাবেক প্রধান সম্পাদক আলেকজান্দ্রা শুলম্যান বিবিসি রেডিওকে বলেন, ভালেনটিনোর প্রতিটি দিকই ‘মোহনীয় ও বিলাসিতার প্রতীক’ ছিল।

এক ভালেনটিনো বুটিকে আলাপচারিতায় কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

এক ভালেনটিনো বুটিকে আলাপচারিতায় কর্মীরা

ভালেনটিনোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শুলম্যান বলেন, “তিনি আধুনিক যুগের শেষ মহান ডিজাইনারদের একজন ছিলেন। 

“আমার মনে হয় তার সবচেয়ে বড় অবদান হল—মানুষ একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করে, তিনি ঠিক সেটাই ছিলেন।

“তিনি সবচেয়ে ফ্যাশনেবল বা সবচেয়ে আধুনিক ডিজাইনার হওয়াকে খুব একটা পাত্তা দিতেন না। তিনি কেবলই সুন্দর পোশাক তৈরি করতে চেয়েছিলেন—এবং সেগুলো সত্যিই সুন্দর ছিল।

“তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তার তারকা গ্রাহকদের ধরে রাখতে পেরেছিলেন। শুরুর জীবনে জ্যাকলিন কেনেডির মত মানুষরা শোকের সময় ভালেনটিনোর পোশাক পরতেন।”

শুলম্যান জানান, গত ১৫ বছরে হলিউডের অনেক তারকা—যেমন গুইনেথ পালট্রো, নিকোল কিডম্যান ও জেনিফার লোপেজ—ভালেনটিনোর নকশার বড় সমঝদার ছিলেন।

তিনি বলেন, “রেড কার্পেটের গুরুত্ব বাড়ায় তার যশ বেড়েছিল, কারণ তার পোশাকগুলো রেড কার্পেটের জন্য পুরোপুরি মানানসই ছিল। 

“ওগুলো অফিসে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে পরার পোশাক ছিল না—ওগুলো ছিল সত্যিকারের দৃষ্টিনন্দন গাউন।”