১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি সংশোধনের কথা বলেছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস

ট্রাম্পের দূতরা ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতায় পৌঁছেছেন কয়েকটি ক্ষেত্রে তা সংশোধন করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি সংশোধনের কথা বলেছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বার্গাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 10:29 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুমে’ শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে ‘কিছু সংশোধনের’ কথা বলেছেন বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে অ্যাক্সিওস মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পের দূতরা ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতায় পৌঁছেছেন শুক্রবারের ওই বৈঠকে কয়েকটি ক্ষেত্রে তা সংশোধন করার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট। 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে করতে প্রাথমিক সমঝোতায় সম্মতি ও ‍যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে সিচুয়েশন রুমের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে বৈঠকের আগে জানালেও বৈঠক শেষে চুক্তির বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী সংক্রান্ত ধারা সংশোধন করতে বলেছেন। এই ধারায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না, এমন প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট ছাড়ের কথা নেই।  

মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ওই উপাদান (ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ) পাবে আর কতো সময় লাগবে তা আরও সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে।” 

দ্বিতীয় আরেক সূত্র সংবাদ মাধ্যমটিকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করা নিয়ে প্রস্তাবিত চু্ক্তিতে যেভাবে বলা হয়েছে সেই ভাষারও পরিবর্তন চান ট্রাম্প। 

সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে ‘তিন দিন লাগবে’। 

আর মার্কিন প্রশাসনের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “এই সপ্তাহের শেষে আমরা কিছু পাবো বলে আশা করছি।” 

হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুম’ এ বৈঠকের আয়োজন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সংকট মোকাবেলার জন্য।

শুক্রবারের এই বৈঠকের আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে ফের খুলে দেবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করবে।

বৈঠকের পর হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু তখনই একটি চুক্তি করবেন যখন সেটি আমেরিকার জন্য ভালো হবে আর তার রেডলাইনগুলোকে সন্তুষ্ট করবে। ইরান কখনোই একটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।”

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, সম্ভাব্য চুক্তিটিতে পারমাণবিক সংক্রান্ত কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইরান ও ওমানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।