Published : 02 Sep 2026, 12:45 AM
জার্মানি গত মাসে তাদের লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হানার জন্য রাশিয়া দায়ী বলে অভিযোগ করেছে।
গত ৪ অগাস্ট পূর্ব জার্মানির ওই বিমানবন্দরে ইউক্রেইনের একটি কার্গো বিমানের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া যায়। ড্রোনটির বিস্ফোরক যন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।
তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, দ্বিতীয় একটি ড্রোন কাছাকাছি একটি মালবাহী বিমানের সাথে ধাক্কা খেয়েছিল। ১০ দিন পর বিমানবন্দরের কাছে তৃতীয় আরেকটি ড্রোন পাওয়া যায় বলে শোনা গেছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ড বলেছেন, লাইপজিগ বিমানবন্দরের ওই ড্রোন হানা ইউরোপে রাশিয়ার হাইব্রিড অপারেশনের ধারার সঙ্গেই মিলে যায় এবং জার্মানিকে আবারও নিশানা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল যে, রাশিয়া এর জন্য দায়ী হতে পারে। তবে রাশিয়া সবসময়ই এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দর জার্মান সামরিক বাহিনী এবং নেটো জোটের মিত্রদেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম বা পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া, এটি ইউক্রেইনের 'আন্তোনভ এয়ারলাইন্স'-এর একটি ঘাঁটি, যা দেশটির আকাশপথে পরিবাহিত পণ্যের সিংহভাগই বহন করে।
বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল বলেন, তিনি বন- এ অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন এবং বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র 'রাশিয়ান হাউস' পরিচালনার চুক্তিও বাতিল করা হবে, যা অনেক পর্যবেক্ষকের মতে গোয়েন্দাগিরি এবং রাশিয়ার অপপ্রচার ছড়ানোর কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল।
পশ্চিমা সামরিক জোট নেটো প্রধান মার্ক রুত্তে বলেছেন, তার জোট জার্মানির সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। এক্স-এ তিনি লেখেন, "প্রমাণ স্পষ্ট। আমি এর জবাবে জার্মানির ঘোষিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।”
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দিনশেষে আয়ারল্যান্ডে ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জার্মানির বিমানবন্দর, সামরিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোতে গত এক বছরে ড্রোন দেখা যাওয়ার খবর জানানো নেটোভুক্ত কয়েকটি দেশের মধ্যে জার্মানি অন্যতম।
বার্লিন লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হানার পেছনে কে থাকতে পারে সে বিষয়ে এতদিন পর্যন্ত মুখ খোলেনি। তবে তারা এটুকু বলেছিল যে, এ ঘটনায় 'বিদেশি শক্তি' জড়িত থাকতে পারে।
ইউক্রেইনের একটি প্রধান সমর্থক দেশ হল জার্মানি এবং কিইভের (ইউক্রেইনের রাজধানী) প্রতি চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের সমর্থন খুবই স্পষ্ট ও দৃঢ়।
ফলে, জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ মালামাল পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রে ইউক্রেইনের যেসব মালবাহী বিমান আছে, সেগুলো কেন রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তা খুব সহজেই আঁচ করা যায়।