১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কারফিউ জারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানানোর দুই দিন পর থাইল্যান্ড এমন সিদ্ধান্ত নিল।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কারফিউ জারি
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘাতের জেরে বাস্ত্যুচ্যুত কম্বোডীয়রা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Dec 2025, 06:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে কারফিউ ঘোষণা করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। এর দুই দিন পর থাইল্যান্ড এমন সিদ্ধান্ত নিল।

থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি কারফিউ ঘোষণার পর ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সামগ্রিকভাবে, শনিবার কম্বোডিয়া আবারও যুদ্ধবিরতির দ্বার খোলা রাখার কথা জানানোর পর থেকে সংঘর্ষ চলছেই।”

“থাইল্যান্ড একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দ্বার খোলা রেখেছে, তবে আলোচনা করার আগে কম্বোডিয়াকে প্রথমে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে,” বলেন তিনি।

শনিবার থাইল্যান্ডের বাহিনী জানায়, তারা একটি সেতু ধ্বংস করেছে, যা কম্বোডিয়া ওই অঞ্চলে ভারি অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করতে ব্যবহার করে আসছিল।

তাছাড়া, কম্বোডিয়ার উপকূলীয় কোহ কং প্রদেশে পূর্বেই স্থাপিত কামানের ওপর অভিযান শুরু করেছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে কম্বোডিয়া।

থাইল্যান্ডের কারফিউ কোহ কং- প্রদেশের কাছেই ত্রাত প্রদেশের পাঁচটি জেলায় জারি হয়েছে। তবে পর্যটন দ্বীপ কোহ চাং ও কোহ কুড এই কারফিউয়ের আওতায় নেই। থাই সেনাবাহিনী এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় সাকেও প্রদেশে কারফিউ জারি করেছিল, সেটি এখনও বজায় আছে।

গত সোমবার থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের ৮১৭ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর ভারি অস্ত্রের গুলিবিনিময় করছে। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে গত জুলাইয়ের পাঁচ দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র সংঘাত।

 জুলাইয়ের সংঘর্ষে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, তিনি শুক্রবার থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব গুলিবর্ষণ বন্ধে তারা রাজি হয়েছে।

শনিবার অনুতিন অঙ্গঅকার করে বলেন, “যতক্ষণ না আমরা আমাদের ভূমি ও জনগণের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা পাচ্ছি, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব।”

হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেছেন, সব পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন বলেই ট্রাম্প আশা করেন। হত্যা বন্ধ করা ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে যে কাউকেই তিনি জবাবদিহিতার মুখে দাঁড় করাবেন।