১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লোহিত সাগরে জাহাজে মাশুল বসানোর খবর উড়িয়ে দিল হুতিরা

যদি হুথিরা বাব আল-মান্দাবে কোনো শুল্ক আরোপ করত, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো সৌদি আরব।

লোহিত সাগরে জাহাজে মাশুল বসানোর খবর উড়িয়ে দিল হুতিরা
চীনা পতাকাবাহী ভিএলসিসি সুপারট্যাঙ্কার ‘কসনিউ লেক' ২৩ জুলাই বাব আল-মান্দাব প্রণালি হয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 02:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে মাশুল বা কর আদায়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। 

গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শনিবার হুথি পরিচালিত 'হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার' (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে। এইচওসিসি বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল তদারকি করে থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলপথটিতে তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে নিরাপদ ট্রানজিট সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বাব আল-মান্দাব অতিক্রম করার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অর্থ দাবি করে, তবে তারা ইয়েমেন বা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করে না।

আল জাজিরা লিখেছে, এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কোনো অননুমোদিত পক্ষকে অর্থ বা তথ্য না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহ পর লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। 

আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, জুলাইয়ে সানার এক হুথি প্রতিনিধি দল খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নিতে তেহরান সফরকালে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই ফি আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করে।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তেল ও বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজের বড় অংশই এই প্রণালি ব্যবহার করে। এ পথে মাশুল বসানো হলে তা ইরানের হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের চেষ্টার অনুরূপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

আল জাজিরা লিখেছে, যদি হুথিরা বাব আল-মান্দাবে কোনো শুল্ক আরোপ করত, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো সৌদি আরব। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিকল্প পথ হিসেবে এই জলপথটির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জাহাজে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে আসছিল হুথিরা। জলপথটিতে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

হুথিদের নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব বাব আল-মান্দাব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে মুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ১৪টি দেশের একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।