বিস্ফোরণে ক্রাইমিয়ার বিমানঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বলছে উপগ্রহের ছবি

রানওয়ে অক্ষত থাকলেও ঘাঁটিটির ভেতর একাধিক গর্ত দেখা গেছে। অন্তত ৮টি রুশ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 August 2022, 10:16 AM
Updated : 11 August 2022, 10:16 AM

রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রাইমিয়ার বিমানঘাঁটিতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বেশ কয়েক রুশ বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেই উপগ্রহের ছবিতে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার ক্রাইমিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত সাকি ঘাঁটিটি সিরিজ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে, এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পরে জানায় রুশ কর্তৃপক্ষ।

উপগ্রহের ছবিতে ঘাঁটিটির রানওয়ে অক্ষত দেখা গেছে, অন্তত ৮টি রুশ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে, ঘাঁটিতে একাধিক গর্তও দেখা যাচ্ছে।

ইউক্রেইন এই ঘটনার দায় স্বীকার না করলেও ক্রাইমিয়ার ওই ঘাঁটিতে সম্ভবত পরিকল্পিত হামলাই হয়েছে বলে উপগ্রহের ছবি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বলছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যানেট ল্যাবের দেওয়া ছবিগুলোতে বোঝা যাচ্ছে, আগুনে সাকি বিমানঘাঁটির বিশাল অংশ পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়া বিমানগুলো ঘাঁটিটির সুনির্দিষ্ট একটি এলাকায় আছে, হ্যাঙ্গারের ছাউনি থেকে দূরে যেখানে খোলা আকাশের নিচে বিপুল সংখ্যক বিমান পার্ক করে রাখা ছিল।

ইউক্রেইনের উপর থাকা উপগ্রহের পাঠানো শত শত ছবির ওপর নজর রাখা প্ল্যানেট ল্যাব সাকি ঘাঁটির ৯ আর ১০ অগাস্টের যেসব ছবি দিয়েছে, তাতে বিস্ফোরণে যে ঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার প্রথম নিরপেক্ষ প্রমাণ মিলেছে। তার আগ পর্যন্ত বিস্ফোরণে কী মাত্রার ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত জানা যায়নি।

তবে কীভাবে ঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রাশিয়া বলছে, তাদের ভাণ্ডারে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণের কারণে এমনটা হয়েছে।

ইউক্রেইনও নিজেরা দায় নিচ্ছে না; তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, কাণ্ডজ্ঞানহীন রুশ সৈনিকদের জন্যই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

বিস্ফোরণে রাশিয়ায় ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী। অন্যদিকে রাশিয়া তাদের কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে, সেটি যে সত্য নয়, উপগ্রহের ছবিতে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, দুই ধরনের বিস্ফোরণ ঘাঁটিতে দুর্ঘটনা নয়, হামলা হয়েছিল বলেই ইঙ্গিত করছে।

ইউক্রেইনের ক্রাইমিয়ায় হামলা চালানোর অধিকার আছে বলেও মনে করেন তিনি।

“কেবল নিজেদের ভূখণ্ড পুনর্দখল নয়, আগ্রাসনকারীদের হটিয়ে দিতে দরকার পড়লে ব্যাপক শক্তির প্রয়োগ ইউক্রেইনের দিক থেকে পুরোপুরি বৈধ,” বলেছেন তিনি।

ক্রাইমিয়া হামলা হলে তা ইউক্রেইন ঘিরে এখন যে যুদ্ধ চলছে, তার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই অনুমান বিশ্লেষকদের।

গত মাসে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন, ইউক্রেইন যদি ক্রাইমিয়ায় হামলা চালায়, তাহলে ‘শেষ বিচারের দিন তাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অপেক্ষা করবে’।

ক্রাইমিয়া আন্তর্জাতিকভাবে ইউক্রেইনের বলে গণ্য হলেও কৃষ্ণসাগরের এই উপদ্বীপটি রাশিয়া ২০১৪ সালে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল।

আর রাশিয়ার ওই দখলের মধ্য দিয়েই ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বলে অনেকেই মনে করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক