রাফায় অভিযান চালালে জিম্মি মুক্তি হুমকিতে পড়বে: হামাসের হুঁশিয়ারি

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত বেশির ভাগ ফিলিস্তিনি রাফাহ নগরীতে আশ্রয় নিয়েছে। তার মধ্যেই সেখানে অভিযান চালানোর তোড়জোড় করছে ইসরায়েল।

রয়টার্স
Published : 11 Feb 2024, 06:12 PM
Updated : 11 Feb 2024, 06:12 PM

গাজার মিশর সীমান্তবর্তী রাফাহ নগরীতে ইসরায়েল অভিযান চালালে জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনা ‘মুখ থুবড়ে পড়বে’ বলে হুঁশিয়ার করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী শসস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

রোববার হামাসের এক নেতা এ হুঁশিয়ারি দেন। হামাস পরিচালিত আকসা টিভি চ্যানেল এই নেতার বক্তব্য প্রচার করেছে।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাস্তুচ্যুত বেশির ভাগ ফিলিস্তিনি রাফাহ নগরীতে আশ্রয় নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর মধ্যেই সেখানে অভিযান বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, তারা সেনাবাহিনীকে রাফাহ নগরী খালি করা এবং সেখানে থাকা হামাসের ব্যাটেলিয়নগুলো ধ্বংসের পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছে।

নেতানিয়াহু এ সপ্তাহেই বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি জয় না পাওয়া পর্যন্ত লড়বে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় এর আগে অভিযান শুরুর সময়ে লোকজনকে দক্ষিণে পালাতে বলেছিল।

আর এখন গাজায় সরে যাওয়ার কোনও নিরাপদ জায়গা নেই। ত্রাণ সংস্থাগুলো বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রোববার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গাজায় হামাসের হাতে জিবীত ১৩২ জিম্মি আছে। তাদেরকে মুক্ত করার জন্য ওই অঞ্চলে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার যৌক্তিকতা আছে।

এবিসি নিউজের দিস উইক প্রোগ্রামে তিনি বলেন, “আমরা সব জীবিত জিম্মি এবং লাশগুলোকেও ফিরিয়ে আনতে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করতে চলেছি।”

তবে ইসরায়েলকে রাফায় অভিযান না চালাতে বারবারই আন্তর্জাতিক মহল থেকে সতর্ক করে আসা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এরই মধ্যে রাফায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে।

কারণ, মিশরের সীমান্তবর্তী রাফাহ নগরীই ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ থেকে পালিয়ে আসা গাজাবাসীদের শেষ আশ্রয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোও গাজার বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গতবছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে হামাস প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে।