১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বেলুচিস্তান: তিন দিনে ১৭৭ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে পাকিস্তান বাহিনী

আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী প্রদেশ বেলুচিস্তানে কয়েক দশক ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনে লড়াই করে আসছে পাকিস্তান।

বেলুচিস্তান: তিন দিনে ১৭৭ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে পাকিস্তান বাহিনী
কোয়েটার এক পুলিশ স্টেশনে হামলার পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাড়ির সারি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Feb 2026, 04:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:51 PM

পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সমন্বিত সিরিজ বোমা ও বন্দুক হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হওয়ার পর গত তিন দিনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১৭৭ জন সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে।    

সোমবার নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজকে এমনটি জানিয়েছে। 

তারা জানান, নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং পুলিশ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও তাদের সহায়তাকারীদের কোনঠাসা করে ফেলেছে।   

শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টার দিকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের আরও ১২টি শহরে ‘সমন্বিতভাবে’ হামলা চালায় জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তারা কোয়েটার বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে একযোগে হামলা চালিয়ে অন্তত আট পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলায় আরও বহু সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। 

পাকিস্তানের খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র এই প্রদেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা এটি। শনিবার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গত তিন দিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই চলছে। 

কোয়েটার এক পুলিশ স্টেশনে হামলার পর সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ। ছবি: রয়টার্স  

কোয়েটার এক পুলিশ স্টেশনে হামলার পর সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ

রোববার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বেলুচিস্তানে ১৫০ জনেরও বেশি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীকে’ হত্যা করেছে। তারপর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী আরও ২২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে বলে জিও নিউজ জানিয়েছে। 

আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী প্রদেশ বেলুচিস্তানে কয়েক দশক ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনে লড়াই করে আসছে পাকিস্তান। প্রদেশটিতে বিদ্রোহীরা রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয় নন এমন লোকজনের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) শনিবারের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বিএলএ জানিয়েছে, তারা প্রদেশজুড়ে একযোগে বন্দুক ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোকালে সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যস্থল করেছে।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, গোয়াদর, ডালবানদিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প ও পাসনি জেলাজুড়ে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত এসব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। ভারত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথের লোহার গেটে গুলির চিহ্ন। ছবি: রয়টার্স  

পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথের লোহার গেটে গুলির চিহ্ন

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি রোববার জিও নিউজকে জানান, বিএলএ-র হামলায় ৩১ জন বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। 

বিএলএ-র এক হাজার থেকে দুই হাজার বিচ্ছিন্নতাবাদী এসব হামলায় অংশ নিয়েছে, এমন খবরের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বুগতি সেগুলোকে ‘ভুল’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ জনের মতো ছিল আর তাদের অধিকাংশকেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা হত্যা করা হয়েছে। 

তিনি জানান, তার প্রদেশের সমস্যা ‘রাজনৈতিক নয়’ আর শুধু ‘সামরিকভাবেই এর সমাধান সম্ভব’। 

পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে বিএলএ-র বিচ্ছিন্নতাবাদী, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও তাদের সাহায্যকারীদের সংখ্যা ‘চার থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে হবে’ বলে দাবি করেছেন তিনি। 

আরও পড়ুন: 

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বোমা ও বন্দুক হামলানিহত ১৯৩