Published : 07 Dec 2025, 12:26 PM
গাজায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতিকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে’ এসে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি।
মধ্যস্থতাকারীরা এখন যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে কাজ করছেন, শনিবার কাতারে দোহা ফোরাম সম্মেলনে এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তেল আবিব ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সঙ্গে লম্বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যে কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় আপাতত দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, কাতার তার অন্যতম।
চলতি বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সহিংসতা কমে এলেও পুরোপুরি থামেনি। শনিবারও ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
“আমরা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে রয়েছি। বিষয়টি এখনো সেই পর্যায়ে (যুদ্ধ শেষ) পৌঁছেনি। এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি, তাকে কেবল বিরতি বলা যেতে পারে।
“আমরা এখনও একে যুদ্ধবিরতি গণ্য করতে পারি না। যুদ্ধবিরতি তখনই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে যখন ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি সরে যাবে, গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, মানুষ ঢুকতে-বের হতে পারবে, এখনকার পরিস্থিতি তা নয়,” বলেছেন থানি।
এদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি এক প্রতিনিধি দল গাজা থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত আনতে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই মরদেহ ইসরায়েল ফেরত পেলেই ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম অংশটি শেষ হবে।
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে হামাস তাদের কাছে থাকা ২০ জীবিত জিম্মির সবাইকে এবং ২৭ জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
ইসরায়েল বলেছে, তারা শিগগিরই মিশর দিয়ে বের হতে গাজার রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেবে। আর শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পেলে রাফা দিয়ে গাজায় ঢুকতেও দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা দেখভালের দায়িত্বে থাকবে আন্তর্জাতিক একটি ‘শান্তি পর্ষদ’, আর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সহযোগিতা দেবে। তবে এই বাহিনীর গঠন ও দায়িত্বসীমা নিয়ে একমত হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডটিতে সংঘাত অনেকটা কমে এলেও ইসরায়েলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত আছে। তেল আবিব বলছে, তারা হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিক অভিযোগও করে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ইসরায়েলি হামলায় উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া, জাবালিয়া ও জেইতুনে ৭ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক নারীও আছেন, যিনি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তথাকথিত ইয়োলো লাইন অতিক্রম করার দুটি পৃথক ঘটনায় উত্তর গাজায় মোতায়েন করা সেনারা ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনজন নিহত হয়।
যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার বাসিন্দাদের এই ইয়োলো লাইন অতিক্রম করার কথা না। ওই লাইন থেকে তার পরবর্তী অংশের কর্তৃত্ব এখনও তেল আবিবের হাতে।
শনিবার কোনো ড্রোন হামলার বিষয়ে সামরিক বাহিনী অবগত নয়, বলেছেন ইসরায়েলি বাহিনীর মুখপাত্র।