২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই, মুখোমুখি লুলা ও বোলসোনারোপুত্র ফ্লাভিও

প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন। ওদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও ক্ষমতায় আসতে মরিয়া।

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই, মুখোমুখি লুলা ও বোলসোনারোপুত্র ফ্লাভিও

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 10:50 PM

Updated : 25 Oct 2026, 10:50 PM

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন।

ওদিকে, ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোও ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই প্রার্থীর মধ্যকার দ্বিতীয় দফার ভোট।

শেষ মুহূর্তের জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এই নির্বাচনের ফল কেবল ব্রাজিলের রাজনৈতিক ভাগ্যই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।

ব্রাজিলের প্রথম দফা নির্বাচনে জনমত জরিপের পূর্বাভাস উল্টে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে দ্বিতীয় দফার প্রচারে ব্যবধান কমিয়ে আনেন লুলা।

গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭% ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন এবং লুলা পেয়েছিলেন ৪৫% ভোট।

তবে ২৫ অক্টোবরের রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ডাটাফোলহা ও কুয়েস্ট ইনস্টিটিউটের চূড়ান্ত জরিপে দেখা গেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ৫১% এবং লুলা ৪৯% জনসমর্থন পাচ্ছেন।

ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে ব্যাবধান খুব কম। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসের মধ্যে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের অবস্থান এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির হারই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রাজিলের নির্বাচনের ইতিহাসে এর আগে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনও প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুচিয়ে কখনও জয়ী হতে পারেননি। ফলে লুলা এবার সেই ধারা ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন কিনা তা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ব্রাজিলিয়ানরা ভোট দিতে শুরু করেছেন রোববার স্থানীয় সময় সকালে। বিকালে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

নির্বাচনে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বোলসোনারো জিতলে ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুভাবাপন্ন ডানপন্থি নেতাদের জয়ের ধারা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, লুলা যদি চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসেন, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতাশার হবে। কারণ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে লুলা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই বিরোধ চলছে।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ব্রাজিলে বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরাতে ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তর চেষ্টা চালাচ্ছিল।

এর পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। লক্ষ্য ছিল, ব্রাজিলের নির্বাচনে ডানপন্থি বলসোনারো গোষ্ঠীর পক্ষে জনমত তৈরি করা এবং তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডিসিলভা যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের গোপন তৎপরতাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে তীব্র সমালোচনাও করেছেন।

লুলার অভিযোগ,যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

একই সঙ্গে ব্রাজিলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি এক ধরনের অনৈতিক জুলুম বা ‘বুলিং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

লুলা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ‘সার্বভৌমত্বের পরীক্ষা’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি রোববার ব্রাজিলের ভোটাররা আইনপ্রণেতা, রাজ্য গভর্নর ও সেনেটর নির্বাচনের জন্যও ভোট দেবেন।

ভোটগ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক ফল গণনা রোববার রাতেই প্রকাশ করার কথা রয়েছে। শেষ হাসি কে হাসবে তাই এখন দেখার বিষয়।