Published : 24 Jul 2024, 01:04 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়ে তার স্থানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘বুড়ো’ বাইডেন সমর্থন দিয়েছেন কমলা হ্যারিসকে, যিনি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ভোটে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবেলা করতে যাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে কমলা উঠে আসায় নভেম্বরের ভোট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের চেয়ে জনপ্রিয়তা কিছুটা পিছিয়ে থাকা কমলা কীভাবে পার হবেন নির্বাচনের বৈতরণী? কীভাবে ‘ট্রাম্প জোয়ার’ রুখে দেবেন? পারবেন কী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে?
এসব প্রশ্ন সামনে এনে শুরু হয়েছে পর্যালোচনা। বিবিসি বলছে, মনোনয়ন না হয় পেলেন কিন্তু ভোটে জেতার জন্য কী পাচ্ছেন কমলা হ্যারিস?
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার বাইডেন এক বিবৃতিতে ঘোষণা দেন, প্রেসিডেন্ট পদের দৌড় থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সেবা করা সবচেয়ে বেশি সম্মানের কিন্তু সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তার দল ও দেশের সর্বোত্তম স্বার্থে।
বাইডেন তার প্রথম বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতায় উত্তরসূরি হিসেবে কমলার নাম বলেননি। তবে কিছুসময় পর সেটি পরিষ্কার করেন।
আরেকটি বিবৃতি দিয়ে কমলাকে সমর্থনের কথা জানান বাইডেন, বলেন, তার নাম প্রস্তাব করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন তিনি।
কমলাকে বাইডেন বলেন, তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে, তিনি ভোটে প্রার্থী হবেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনিই জিতবেন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধও করবেন কমলা।
এত দিন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকা বাইডেন হঠাৎ সরে দাঁড়ানোয় কমলা সুযোগ পাচ্ছেন ঠিকই, তবে সেটি ট্রাম্পকে পরাজিত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে লিখেছে বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাইডেন যেদিন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন, সেদিনও প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন কমলা।
প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার চূড়ান্ত টিকেট পাওয়ার পর্বটি সহজে পার হওয়ার সুযোগ পাবেন কমলা কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নভেম্বরে ট্রাম্পকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেই চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে, লিখেছে বিবিসি। কমলার মনোনয়ন ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বাড়াবে, এটা ঠিক কিন্তু বাইডেনকে ঘিরে দলটির দুর্বলতাও তো প্রকাশ্যে এসেছে।
বিবিসির মতে, এত কিছুর পর প্রকৃতপক্ষে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াইর পথ তৈরি হয়েছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের চাঙ্গা হওয়ার মতো অনেক উপাদান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদে কমলার প্রার্থিতায় উঠে আসা গত তিন সপ্তাহ ধরে ৮১ বছর বয়সি বাইডেনকে ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবিরে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল, সেটি কেটে গেছে এবং তাদের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চার হয়েছে।
কমলা প্রার্থী চূড়ান্ত প্রার্থী হলে ডানপন্থিদের ভোটাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন তিনি। এ ছাড়া দোদুল্যমান ভোটের রাজ্যগুলোতেও ভিত শক্ত হবে ডেমোক্র্যাটদের।
ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে ডলার যোগের মধ্য দিয়েই। কমলার প্রচারশিবিরের তথ্য অনুযায়ী, বাইডেন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য কমলা ৮ কোট ডলার তহবিল জোগাড় করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে কোনো প্রার্থীর এক দিনে সংগ্রহ করা তহবিলের চেয়ে বেশি। এই পরিমাণ অর্থ নির্বাচনি প্রচার জোরদার করতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
কমলা চূড়ান্ত প্রার্থী হলে বাইডেনের বয়সকে যেভাবে নির্বাচনি প্রচারের অস্ত্র বানিয়েছিল রিপাবলিকানরা ঠিক উল্টো হবে ট্রাম্পের বয়স নিয়ে। ট্রাম্পের বয়সকে প্রচারের অস্ত্র বানাতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। ৭৮ বছর বয়সি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বয়সের দিক থেকে তিনি বাইডেনকেও ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বুড়ো প্রেসিডেন্ট হবেন।
নির্বাচিত হয়ে চার বছর মেয়াদের পুরোটা ক্ষমতা থাকলে ২০২৮ সালে ট্রাম্পের বয়স দাঁড়াবে ৮২ বছর। আর বাইডেন তার ৮১-তে আছেন।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। য়ে কারণে মেডিকেল পরীক্ষা করিয়ে সেইসব রিপোর্ট প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
কমলার বয়স এখন ৫৯ বছর। সে হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে তিনি যোগ্য বলেই বিবেচিত হবেন।