Published : 04 May 2026, 06:32 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ৯ ঘণ্টার ফল গণনায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে এগিয়ে আছে কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ৮টি আসনে জয় পাওয়ায় এবং ১৯০টি আসনে এগিয়ে থাকায় প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছে।
ফলে এখন সবার নজর ধীরে ধীরে দলটির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর দিকে সরছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবারই বলেছিলেন, কোনও এক বাঙালিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা হিসেবেই অমিত শাহের এই মন্তব্য ছিল।
বিজেপি জয় পেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
রাজ্যের শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিজেপি নেতার নাম উঠে এসেছে। বর্তমান ভোটগণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী, এই সব প্রার্থীই নিজ নিজ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। কারা তারা?
শুভেন্দু অধিকারী:
বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদের একজন বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রভাবের জন্য তিনি সুপরিচিত। এই নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর-দুেই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন। ইতোপূর্বে তিনি তৃণমূল সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন এবং তমলুকের সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২১ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বিজেপি’তে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেত্রীর জন্য বড় ধাক্কা ছিল। সে সময় নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ২০১১ সালে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পেছনে নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন বড় ভূমিকা রেখেছিল।
যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে ৭৭টি আসনে আটকে যায়, তবুও শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার পদ পেয়েছিলেন। এরপর টানা পাঁচ বছর তিনি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন।
বামপন্থিদের স্বর্ণযুগে কংগ্রেসের ছাত্ররাজনীতি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতার ডান হাত ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি তৃণমূলের শক্তিকে সংগঠিত করেছিলেন।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি’র পরাজয়ের পর সবাই ভেবেছিল দলটি ধুয়ে-মুছে যাবে। কিন্তু সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী দলের হাল ধরেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা মোকাবেলা করেন এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ান। স্বাভাবিকভাবেই তিনি বিজেপি’র অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন এবং পুরো রাজ্যেরই নেতা বনে যান।
শমীক ভট্টাচার্য
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে অন্যতম নাম বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আরএসএস-এর আদর্শে গড়ে ওঠা এই অভিজ্ঞ নেতা সমাজের বিভিন্ন স্তরে দলের ভিত্তি প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি রাজ্যসভার সদস্য এবং গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপি-র শক্তি বাড়াতে তার বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে।
২০১৪ সালের উপ-নির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক হয়েছিলেন। বিজেপি কোনও বাঙালি মুখ বেছে নিতে চাইলে শমীক ভট্টাচার্য হবেন অন্যতম সেরা বিকল্প।
স্বপন দাশগুপ্ত
সাবেক সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র দৈনন্দিন কার্যক্রমে জড়িত হয়েছিলেন। রাজ্য বিজেপির আরেকজন ভদ্রলোক মুখ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি তার একটি দুর্বল দিক।
দিলীপ ঘোষ
সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এখনও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার নেতৃত্বেই ২০১৯-সালের লোকসভা এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। বর্তমানে তিনি খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং দলের অভ্যন্তরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি’র পরাজয় এবং এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি দল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার পর তাকে আবারও মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হতে চলেছেন।
সুকান্ত মজুমদার:
রাজ্য বিজেপির আরেক সাবেক সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ থেকে কাউকে শীর্ষ পদের জন্য বেছে নিতে চাইলে তিনি অন্যতম পছন্দ হতে পারেন।