Published : 06 May 2026, 09:24 PM
সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ‘মার্কিন মিডিয়া মুঘল’ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টেড টার্নার মারা গেছেন।
তার প্রতিষ্ঠিত টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার পরিবারের সান্নিধ্যে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ ৮৭ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন।
সিএনএন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনিই প্রথম আধুনিক ২৪ ঘণ্টার সংবাদ পরিবেশন সংস্কৃতির পথ দেখান।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেওয়া টেড টার্নার ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। গণমাধ্যম ব্যবসায়ী টার্নার এমন এক গণমাধ্যম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিশ্বের প্রথম ক্যাবল প্রথম সুপারস্টেশন, চলচ্চিত্র ও কার্টুনের জনপ্রিয় চ্যানেল এবং ‘আটলান্টা ব্রেভসের’ মত পেশাদার ক্রীড়া দল।
তার মৃত্যুতে সিএনএনের সিইও ও চেয়ারম্যান মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, “টেড টার্নার ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। তিনি ছিলেন নির্ভীক, অকুতোভয় এবং সবসময় নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা রেখে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকতেন।

“তিনি ছিলেন সিএনএনের প্রাণপুরুষ এবং সবসময় তাই থাকবেন। তিনি সেই মহান ব্যক্তিত্ব যার কাঁধে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আজ সবাই তার জীবন এবং এই বিশ্ব ও আমাদের জীবনে তার প্রভাবকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।”
বিবিসি লিখেছে, প্রতিষ্ঠার শুরুতে সিএনএন বেশ লড়াই করলেও ১৯৮১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে হত্যার চেষ্টা এবং ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল বিপর্যয়ের মত ঘটনাগুলো টেড টার্নারের নেতৃত্বে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের প্রমাণ করে।
১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় বিরতিহীন খবরের মাধ্যমে সিএনএন প্রকৃত অর্থে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
টার্নারের ব্যবসায়িক জগৎ কেবল সিএনএন এ সীমাবদ্ধ ছিল না। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক ‘বিলবোর্ড’ কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি জর্জিয়ার আটলান্টায় একটি রেডিও স্টেশন কেনেন।
এক দশকের মধ্যে সেই রেডিও স্টেশনটিই ‘টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেম-টিবিএস’ এর ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মিডিয়া মুঘলে পরিণত হন।
১৯৯১ সালে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব’ নির্বাচিত হন।