Published : 01 Apr 2026, 01:51 AM
সৌদি নাগরিকরা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দেশে ভ্রমণ করলে তাদের সর্বোচ্চ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করা হবে বলে খবর দিয়েছে সৌদি গেজেট।
এক প্রতিবেদনে সৌদি সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দেশটির ‘ট্রাভেল ডকুমেন্টস আইন’ এর বিধিমালায় এই শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ তা অনুমোদন করেছেন।
কোন কোন দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, কয়েকটি পরিস্থিতিতে শাস্তি আরও বাড়ানো হবে। যেমন, সংশ্লিষ্ট দেশটি যদি বিপজ্জনক হয়, যুদ্ধ বা সংঘাতপূর্ণ এলাকা হয়, অথবা জরুরি পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি কমানো হতে পারে। যেমন ওই দেশে প্রথম শ্রেণির পারিবারিক সম্পর্ক থাকলে, সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার জন্য ট্রানজিট হিসেবে ওই দেশে অবস্থান করলে, অথবা বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হলে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘোষণায় কেউ ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। এ অপরাধের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানা দ্বিগুণ করা হবে এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হবে।
ভ্রমণ নথিতে অনুমতি ছাড়া কোনো পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন বা তথ্য বিকৃতি ঘটালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি আদালতে পাঠাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রমণ নথি নষ্ট করা, জাল করা বা ছবিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে নিজের ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার করতে দিলে, বা তা বিক্রি বা বন্ধক রাখলে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানা দ্বিগুণ হবে।
একইভাবে অন্যের ট্রাভেল ডকুমেন্ট অবৈধভাবে ব্যবহার করা, ব্যবহার করার চেষ্টা করা বা এ কাজে সহায়তা করলেও একই ধরনের শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
নির্ধারিত প্রবেশপথ ছাড়া অন্য কোনো পথে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া সৌদি আরব ত্যাগ বা প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। অপরাধের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানা দ্বিগুণ করা হবে।
বিধিমালায় পাসপোর্ট ও ট্রাভের ডকুমেন্ট ইস্যুর শর্ত ও প্রক্রিয়া, হারিয়ে গেলে করণীয় এবং অবহেলার কারণে হারানোর ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়গুলোও বলা হয়েছে।
কেবল নির্ধারিত সরকারি প্রবেশপথ দিয়েই সৌদি আরবে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করা যাবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অননুমোদিত পথে প্রবেশ বা ভ্রমণ নথি ছাড়া দেশে ঢুকতে হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
সৌদি নাগরিকরা যদি স্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদী বসবাসের অনুমতি নিয়ে বিদেশে যান, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে তাদের পাসপোর্ট নিবন্ধন করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে হবে।
দূতাবাস নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, হারানো বা চুরির তথ্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, এবং অনুমোদনের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।