২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফকল্যান্ডে তেল প্রকল্প বন্ধে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম আর্জেন্টিনার

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ‘সী লায়ন’ তেল প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে বন্ধে যুক্তরাজ্যকে এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।

ফকল্যান্ডে তেল প্রকল্প বন্ধে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম আর্জেন্টিনার

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 09:58 PM

Updated : 29 Sep 2026, 09:58 PM

বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ না করলে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে মিলেই বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ‘সী লায়ন’ নামের তেল প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তা না হলে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত জাতিসংঘের ‘সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে’ (আইটিএলওএস) প্রকল্পটি বন্ধের নির্দেশ চাইবে বুয়েনস আইরেস।

ব্রিটিশ শাসিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনা নিজেদের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ওই অঞ্চলে তেল উত্তোলনকে “আমাদের সম্পদের অবৈধ লুটপাট” আখ্যা দেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সেখানে যে “অমোচনীয় ও অপূরণীয় ক্ষতি” করছে, আর্জেন্টিনা তা দেখে “হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না”।

তবে এই প্রকল্পে কাজ করা ইসরায়েলের ‘নাভিতাস’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘রকহপার’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান মিলেইয়ের হুমকি আমলে নেয়নি। তাদের দাবি, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বৈধ লাইসেন্স নিয়েই তারা তেল অনুসন্ধানের কাজ চালাচ্ছে।

১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদের অধীনে গঠিত ওই আন্তর্জাতিক আদালত জরুরি আইনি নির্দেশ দিতে পারে। তবে আদেশ দিলেও তা মানতে যুক্তরাজ্যকে বাধ্য করার মতো নিজস্ব কোনও ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নেই।

বিরোধের ইতিহাস ও নতুন মোড়

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে যুক্তরাজ্য।

লন্ডনের যুক্তি, এই দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

২০১৩ সালের এক গণভোটে ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা বিপুল ভোটে ‘ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি’ হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দেন। তবে আর্জেন্টিনার দাবি, ওই দ্বীপে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা হয়েছে।

মিলেই প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

তাদের যুক্তি, সার্বভৌমত্ব বিবাদ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে যে জাতিসংঘ প্রস্তাব রয়েছে, এটি তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ফকল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন তাদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের কথা ভাবছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ফকল্যান্ড এর ওপর নিজেদের দাবি আরও জোরালো করে তুলেছে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ফকল্যান্ড সংলগ্ন সমুদ্রে পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে শক্তভাবে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।