তাইওয়ানে সেনা না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এল চীন

মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের জেরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়ার পর চীন এবার তাদের প্রকাশিত নতুন শ্বেতপত্রে তাইওয়ান ইস্যুতে অবস্থান বদলাল।

রয়টার্স
Published : 10 August 2022, 03:15 PM
Updated : 10 August 2022, 03:15 PM

ভবিষ্যতে কখনও তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নিলে সেখানে সেনাবাহিনী বা প্রশাসক না পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি চীন দিয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।

বুধবার হাতে আসা একটি সরকারি নথির ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে- যার অর্থ, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে তাইওয়ানকে স্বায়ত্ত্বশাসনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটি আর তেমন থাকছে না।

বার বার হুঁশিয়ার করার পরও যু্ক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের জেরে ‘কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার’ অংশ হিসেবে দ্বীপরাষ্ট্রটি ঘিরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়ার পর চীন এবার তাদের প্রকাশিত নতুন এক শ্বেতপত্রে তাইওয়ান ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করল।

তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে চীন। যারা পুনরায় এক হবে। এজন্য প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে বেইজিং। তাইওয়ান বিষয়ে চীন তাদের ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং বাকি বিশ্ব ওই নীতি অনুসরণ করবে বলে আশা করে।

চীন এর আগে ১৯৯৩ ও ২০০০ সালে তাইওয়ান নিয়ে দুইটি শ্বেতপত্রে বলেছিল, চীনের মূলভূখণ্ডের সঙ্গে তাইওয়ানের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ অর্জিত হলেও বেইজিং সেখানে ‘সেনাবাহিনী বা প্রশাসক পাঠাবে না’।

এর অর্থ, তাইওয়ান চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হলেও সেখানে পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন বজায় থাকবে। কিন্তু এ লাইনটি চীনের নতুন শ্বেতপত্রে নেই।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানকে হংকংয়ের মত ‘এক দেশ, দুই নীতি’ মডেল প্রস্তাব করেছে।

ওই প্রস্তাবে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য তাইওয়ানকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বায়ত্ত্বশাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে আংশিকভাবে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংরক্ষিত হবে।

তাইওয়ানের প্রধান প্রধান সব রাজনৈতিক দল চীনের ওই ‘এক দেশ, দুই নীতি প্রস্তাব’ বাতিল করেছে। সব জনমত জরিপেও দেখা গেছে, তাইওয়ানের বাসিন্দাদেরও ওই প্রস্তাব পছন্দ নয়।

তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র তাইওয়ানের জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রাখে।

২০০০ সালের শ্বেতপত্রের একটি লাইনে আরও বলা ছিল, যতক্ষণ না তাইওয়ান শুধুমাত্র এক চীন স্বীকার করে এবং স্বাধীনতা না চায় ততক্ষণ পর্যন্ত ‘যে কোনও কিছু নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।” কিন্তু চীনের নতুন শ্বেতপত্রে এ লাইনটিও নেই।

তাইওয়ানের ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’ নতুন শ্বেতপত্রের নিন্দা করে বলেছে, ‘এটি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যায় ভরা চিন্তাভাবনা ও বাস্তবকে উপেক্ষা করা’ এবং এটিই চীন।

নতুন শ্বেতপত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘দ্য তাইওয়ান কোশ্চেন অ্যান্ড চায়না’স রিইউনিফিকেশন ইন দ্য নিউ এরা’। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলে এই ‘নিউ এরা’ বাক্যটি ব্যবহার হচ্ছে।

তাইওয়ান সেই ১৯৪৯ সাল থেকে চীনের আগ্রাসনের হুমকির মধ্যে রয়েছে, যখন মাও সেতুং এর কমিউনিস্ট পার্টি গৃহযুদ্ধে জয়লাভ করে এবং পরাজিত প্রজাতান্ত্রিক চীন সরকার তাইওয়ান দ্বীপে পালিয়ে যায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক